ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার’ অভিযোগ জামায়াত আমিরের সবজিতে আগুন, তেলে সংকট—স্বস্তি শুধু মুরগির দামে কালবৈশাখীর আভাস: ঢাকাসহ ৬ বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, হত্যায় জড়িত সন্দেহ দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথের স্মৃতি বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ চিত্র পেট ও লিভার কতটা সুস্থ? শরীরের ৭টি সঙ্কেতেই মিলবে উত্তর রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে, রেমিট্যান্সে ভর করে স্বস্তি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের জয়, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে নাইকোকে সান্তাহারে বিহঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা বন্ধের সিদ্ধান্ত

দেবব্রত দত্ত
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা দিবসে সাধারণত দেশজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের স্বার্থে এবার সেই আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তার মতে, উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এখন সময়ের দাবি।

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার স্বাধীনতা দিবসের মতো বড় জাতীয় আয়োজনেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে আলোকসজ্জা না থাকলেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছে সরকার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালিত হবে এবং পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদ যাত্রা ও আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আসন্ন ঈদ উল ফিতর সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহনে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং জনজীবনে স্বস্তি বজায় থাকে—সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখছে সরকার। এ জন্য বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA)-এর নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ঈদ প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-এর অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন।

মব জাস্টিস নিয়ে সরকারের অবস্থান

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও মব জাস্টিসের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মব কালচার নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নরসিংদী-তে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জায়গার ঘটনাগুলোও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এতে একদিকে ব্যয় কমবে, অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ে সাশ্রয়ের বার্তাও পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে। তবে জাতীয় দিবসের মর্যাদা বজায় রাখতে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি যথারীতি আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা বন্ধের সিদ্ধান্ত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা দিবসে সাধারণত দেশজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের স্বার্থে এবার সেই আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তার মতে, উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এখন সময়ের দাবি।

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার স্বাধীনতা দিবসের মতো বড় জাতীয় আয়োজনেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে আলোকসজ্জা না থাকলেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছে সরকার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালিত হবে এবং পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদ যাত্রা ও আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আসন্ন ঈদ উল ফিতর সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহনে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং জনজীবনে স্বস্তি বজায় থাকে—সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখছে সরকার। এ জন্য বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA)-এর নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ঈদ প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-এর অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন।

মব জাস্টিস নিয়ে সরকারের অবস্থান

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও মব জাস্টিসের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মব কালচার নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নরসিংদী-তে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জায়গার ঘটনাগুলোও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এতে একদিকে ব্যয় কমবে, অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ে সাশ্রয়ের বার্তাও পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে। তবে জাতীয় দিবসের মর্যাদা বজায় রাখতে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি যথারীতি আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।