চ্যালেঞ্জ ও পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের নারীরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা আজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও পরিশ্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। পারিবারিক আয়, কৃষি, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং বাজারজাতকরণ—সবক্ষেত্রেই নারীরা সমানভাবে সম্পৃক্ত। শুধু পুরুষ নয়, নারীও পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
বাজারে নারীর আধিপত্য
বান্দরবানের স্থানীয় বাজারগুলোতে নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ভোরবেলা মাথায় থ্রুরুং (বাঁশের ঝুড়ি) নিয়ে বাজারে বসে যায় নারীরা। তারা বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ও নিত্যনতুন খাবারের পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করে। দুপুর-সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনের শেষে আবার নিজেরা বাড়ি ফেরেন। তবে পরের দিন আবার একই চক্র।
স্থানীয় বাজারে পুরুষদের তুলনায় নারী বিক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। মগ বাজার, বালাঘাটা বাজার, কালাঘাটা বাজার, ডুলুপাড়া বাজার, গুংগুরু বাজার, তালুকদার, রেইছা ও মাঝেরপাড়া বাজারগুলোতে নারীরা প্রধান বিক্রেতা। সকালে ভোরে তারা নৌকা ডিঙ্গিয়ে পাহাড় থেকে তাজা পণ্য নিয়ে আসে। বিক্রেতা থুই ম্রা প্রু বলেন, “রাতের বিভিন্ন ফল বা সবজি সাজিয়ে রাখি। ভোর হলেই নৌকা ডিঙ্গিয়ে বাজারে ছুটে আসি। এটি আমার নিত্যদিনের ক্ষুদ্র ব্যবসা।”
আরেক বিক্রেতা ক্রাক্ষ্যা প্রু মারমা জানান, তিনি প্রতিদিন সাত থেকে আট ধরনের সবজি বিক্রি করেন। এই ক্ষুদ্র ব্যবসাই তার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক পরিবর্তন
স্থানীয় নারীরা শুধু বাজারজাতকরণ নয়, গৃহস্থালির কাজ, কৃষিকাজ এবং ক্ষুদ্র হস্তশিল্পেও সমানভাবে নিয়োজিত। তারা আঞ্চলিক ফল, সবজি, কাকরল, মরিচ, কলাফুল, আম, লিচু ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে। মারমা, চাকমা, তংচঙ্গ্যা ও বাঙালি নারীরা সক্রিয়ভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালাচ্ছেন।
বান্দরবান বাজার চৌধুরী হ্লাথোয়াহ্রী মারমা বলেন, “আগে পুরুষরাই বাজারে বিক্রি করতেন। এখন নারী বিক্রেতা বেশি হয়ে গেছে। অনেক নারী নিজেদের সংসার নিজেই চালাচ্ছেন।” এটি প্রমাণ করে, পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছে এবং সামাজিক রীতি-নীতি ও লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনকে অতিক্রম করছে।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখছেন না, বরং সমাজে নারীর সক্ষমতা ও নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। স্থানীয় বাজারে নারী উপস্থিতি ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির ফলে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নারীদের এই অংশগ্রহণ কেবল পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তারা খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।





















