বিরোধী শিবিরের চালকের আসনে ডা. শফিকুর রহমান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
নতুন জাতীয় সংসদে ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। জোটের শীর্ষ নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন লাভ করেছে। জোটের শরিক এনসিপি পেয়েছে ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের একজন এবং সাতজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় সংসদে বিরোধী জোটের শক্তি দাঁড়িয়েছে ৭৭ আসনে।
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে এ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে জোটের ভেতরে ইতিবাচক মতামত রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েও আলোচনা চলছে।
চিফ হুইপ পদে এগিয়ে আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। হুইপ হিসেবে এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর নামও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া দলীয় ও আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনায় আরও কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, আসনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও শরিক দলগুলোর প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে জোটের ভেতরে ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়েও কিছু আলোচনা চলছে। এনসিপির একটি অংশ নির্বাচনের পর আলাদা হওয়ার প্রস্তাব তুললেও শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আপাতত জোট অটুট রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। যদি কোনো কারণে এনসিপি জোটে না থাকে, সে ক্ষেত্রে জামায়াতের নির্বাচিত নায়েবে আমিরদের মধ্য থেকে একজনকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হতে পারে।
এদিকে সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের পরিকল্পনাও করছে ১১-দলীয় জোট। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির আদলে এই ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ গঠন করা হলে বিরোধী দলের সদস্যদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তারা গঠনমূলক সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরবেন।
জোটের নেতাদের মতে, এই উদ্যোগ সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সহায়ক হবে। তবে ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিরোধী দলের বিভিন্ন পদ ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। নতুন সংসদে শক্তিশালী ও সংগঠিত বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করাই এখন জোটের প্রধান লক্ষ্য।





















