বনদস্যুর আতঙ্ক আর মাছশূন্য সাগর—দুবলারচরে নীরব শুঁটকির মাচা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীতে মাছের অভাবে খাঁখাঁ করছে মাছ শুকানোর মাচা। দুবলারচর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা -ছবি :বাংলা টাইমস
সুন্দরবনের বুক চিরে গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি আহরণ পল্লী দুবলারচর। যে দ্বীপে বছরের এই সময়টায় শুকনো মাছের গন্ধ আর ব্যস্ততায় মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন কেবল খাঁখাঁ করা মাচা আর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখ। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলে বনদস্যুদের তাণ্ডব আর সাগরে মাছের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুঁটকি জেলেরা।
দুবলার আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাসিম ফরাজী বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বনদস্যুরা একের পর এক জেলেকে অপহরণ করছে। মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করা হচ্ছে সাধারণ জেলেদের। এই আতঙ্কে জেলেরা দনি ও সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। আর যারা যাচ্ছেন, তারাও ফিরছেন প্রায় খালি হাতে।
“যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ট্রলারের জ্বালানি খরচই উঠছে না,”—বলতে বলতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর।
এই দ্বীপের প্রতিটি মাচা যেন একেকটি গল্প। মাছ না থাকায় সেগুলো এখন শূন্য। একদিকে কাঙ্ক্ষিত মাছের অভাব, অন্যদিকে বনদস্যুদের ভয়—দুই চাপে পড়ে জেলে ও মহাজনদের মুখে নেই হাসি। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন প্রায় সবাই। কীভাবে সেই ঋণ শোধ হবে—এই দুশ্চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড় বোঝা।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বাংলা টাইমসকে জানান, মৌসুমের শুরুটা ভালো হলেও হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। “দস্যুরা এখন বেপরোয়া। ট্রলার নিয়ে সাগরে বা সুন্দরবনের খাল-নদীতে গেলেই ধাওয়া করে ধরে নিয়ে যায়। আমরা চাই, র্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযান আরও জোরদার হোক,”—বললেন তিনি।
এই সংকট শুধু জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুবলার ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বাংলা টাইমসকে জানান, বনদস্যুদের অপহরণ বাণিজ্য এবং মাছের অভাবে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুন্দরবনের এই জেলে পল্লীতে প্রতিটি দিন এখন অনিশ্চিত। সাগরে নামা মানে জীবন বাজি রাখা, আর ঘরে বসে থাকা মানে ঋণের বোঝা বাড়ানো। বনদস্যু আর মাছ সংকটের এই দ্বৈত আঘাতে দুবলারচরের শুঁটকি পল্লী যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার প্রাণচাঞ্চল্য।
এই মানুষগুলো শুধু মাছ ধরতে চায়—ভয়ে নয়, নিরাপত্তার সঙ্গে। প্রশ্ন হলো, সেই নিরাপত্তা তারা কবে পাবে?
















