ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ জাতীয় চার নেতার নাম বিএনপি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে: নাহিদ ইসলাম হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৪ যমুনার দুর্গম চরে হেকমতের হুমকিতে অবরুদ্ধ পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে হয়রানি না থাকলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম: মাসুদুজ্জামান ঝালকাঠিতে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প শীতের সবজিতে নামছে দাম, বাজারজুড়ে স্বস্তি এখনো অসম্পূর্ণ সাবেক স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ, অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জুবাইদার

কমিউনিটি সেন্টারের অন্ধকার: ছায়ার মধ্যে হারানো জীবন ও সামাজিক অবহেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাভারের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার—এক সময় যেখানে স্থানীয় অনুষ্ঠান, শিশুর খেলা আর প্রতিবেশীদের মিলনস্থল হতো—আজ নীরব। এই নীরবতা কেবল স্থানীয়দের নয়, পুরো এলাকার উপর ভয় আর আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।

গত সাত মাসে সেখানে একে একে ছয়টি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সাধারণ মানুষ ভাবতেই পারে না, যে “ভবঘুরে” বা পরিচিত একজন মানুষ—যাকে তারা শুধুই দারিদ্র্যের ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া একজন হিসেবে চিনত—সে আসলেই হতে পারে সেই নৃশংস খুনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতল থেকে দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণের পর জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আসল হিরো—মশিউর রহমান খান সম্রাট।

ওসি আরমান আলী বলেন, “সম্রাট একজন মানসিকভাবে বিকৃত সাইকোপ্যাথিক কিলার। তার লক্ষ্য ছিল মূলত ভবঘুরে মানুষ। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ধরন অভিন্ন ও নৃশংস।”

এলাকার বাসিন্দারা এখনও শঙ্কিত। একজন বলেন,“যাকে প্রতিদিন চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম, সেই লোকটা যে এতটা ভয়ংকর—এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, নিহতরা সবাই সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, যাদের কেউ নজর রাখে না। তিনি যোগ করেন, “কেন এমন নৃশংসতা চালানো হলো, তা উদ্ঘাটন করা জরুরি। সোমবার তাকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে তোলা হবে।”

এই ঘটনা শুধু হত্যাকাণ্ডের কাহিনী নয়। এটি আমাদের সমাজের উপেক্ষিত মানুষের গল্প—যারা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়, যাদের পাশে কেউ থাকে না। আর সেই মানুষের জীবনের প্রতি অবহেলা, কখনও কখনও তাদের জীবনকে অমানবিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

সাভারের কমিউনিটি সেন্টারের ধুলো-মাখা দেয়ালগুলো আজও সাক্ষী—একটি সমাজ যেখানে কিছু মানুষের জীবন এত সহজেই হারানো যায়, অথচ আমাদের চোখে ধুলো পড়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কমিউনিটি সেন্টারের অন্ধকার: ছায়ার মধ্যে হারানো জীবন ও সামাজিক অবহেলা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার—এক সময় যেখানে স্থানীয় অনুষ্ঠান, শিশুর খেলা আর প্রতিবেশীদের মিলনস্থল হতো—আজ নীরব। এই নীরবতা কেবল স্থানীয়দের নয়, পুরো এলাকার উপর ভয় আর আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।

গত সাত মাসে সেখানে একে একে ছয়টি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সাধারণ মানুষ ভাবতেই পারে না, যে “ভবঘুরে” বা পরিচিত একজন মানুষ—যাকে তারা শুধুই দারিদ্র্যের ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া একজন হিসেবে চিনত—সে আসলেই হতে পারে সেই নৃশংস খুনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতল থেকে দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণের পর জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আসল হিরো—মশিউর রহমান খান সম্রাট।

ওসি আরমান আলী বলেন, “সম্রাট একজন মানসিকভাবে বিকৃত সাইকোপ্যাথিক কিলার। তার লক্ষ্য ছিল মূলত ভবঘুরে মানুষ। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ধরন অভিন্ন ও নৃশংস।”

এলাকার বাসিন্দারা এখনও শঙ্কিত। একজন বলেন,“যাকে প্রতিদিন চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম, সেই লোকটা যে এতটা ভয়ংকর—এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, নিহতরা সবাই সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, যাদের কেউ নজর রাখে না। তিনি যোগ করেন, “কেন এমন নৃশংসতা চালানো হলো, তা উদ্ঘাটন করা জরুরি। সোমবার তাকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে তোলা হবে।”

এই ঘটনা শুধু হত্যাকাণ্ডের কাহিনী নয়। এটি আমাদের সমাজের উপেক্ষিত মানুষের গল্প—যারা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়, যাদের পাশে কেউ থাকে না। আর সেই মানুষের জীবনের প্রতি অবহেলা, কখনও কখনও তাদের জীবনকে অমানবিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

সাভারের কমিউনিটি সেন্টারের ধুলো-মাখা দেয়ালগুলো আজও সাক্ষী—একটি সমাজ যেখানে কিছু মানুষের জীবন এত সহজেই হারানো যায়, অথচ আমাদের চোখে ধুলো পড়ে থাকে।