অন্ধকারের রাজত্ব! মাদুরোর ঠিকানা ‘পৃথিবীর নরকে’
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে মার্কিন সেনারা। এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে পেন্টাগনের ডেল্টা ফোর্স। পরে তাঁদের নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেস হয়ে ম্যানহাটনের ডিইএ সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে স্থানান্তর করা হয় ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি)।
ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।
মাদুরোর গ্রেপ্তারের খবরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার একাংশ প্রবাসী ব্রুকলিন জেলের বাইরে জড়ো হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। তবে যে কারাগারে মাদুরোকে রাখা হয়েছে, সেই এমডিসি ব্রুকলিন দীর্ঘদিন ধরেই ‘পৃথিবীর নরক’ নামে পরিচিত। বিশৃঙ্খল পরিবেশ, সহিংসতা, দুর্বল নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এ কারাগারে বন্দি পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন বিচারকরাও।
১৯৯০–এর দশকে চালু হওয়া এমডিসিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বন্দি রয়েছেন। এখানে সাধারণত ‘হোয়াইট কলার’ অপরাধী, গ্যাং সদস্য ও মাদকপাচার মামলার অভিযুক্তদের রাখা হয়। অতীতে এই কারাগারেই বন্দি ছিলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ, ক্রিপ্টো জালিয়াতি মামলায় দণ্ডিত স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড, যৌন অপরাধে দোষী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলসহ বহু আলোচিত ব্যক্তি।
বর্তমানে এমডিসিতে বন্দি রয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হুগো কারভাহাল এবং ‘ট্রেন ডি আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের সদস্য অ্যান্ডারসন জাম্ব্রানো-পাচেকোও। কারাগারের ভেতরে সহিংসতা, ঘুষ ও অবৈধ সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালেও সেখানে বন্দি নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস দাবি করেছে, এমডিসির নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, পানি ও খাবার ব্যবস্থায় উন্নয়ন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে কারাগারটি নিরাপদ।
এদিকে ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, দেশের খনিজ সম্পদ ও তেল সম্পদের দখল নিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান চালিয়েছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগও তুলেছে কারাকাস। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদকসন্ত্রাস, কোকেন পাচার, অস্ত্র অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণ ও মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে।





















