ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখতে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন? এইচপিভি টিকা: পুরুষদেরও সুরক্ষায় জরুরি—কোন কোন ক্যানসার ঠেকায়? হৃদ্‌রোগের আগে শরীরে কী ঘটে? ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ ও ঝুঁকির কারণগুলো ‘কৃত্রিম বন্যা’য় সড়কেই হাঁটু পানি, ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে ডুবলো চট্টগ্রাম পানির নিচে পাকা ধান, হাওরপাড়ে কৃষকদের হাহাকার টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের উদ্যোগে খাবার পানি বিতরণ নিউমার্কেটে গুলিবর্ষণে নিহত এক ব্যক্তি—সন্ত্রাসী দ্বন্দ্বের সন্দেহে তদন্তে পুলিশ পরীক্ষাকক্ষে পানি, বেঞ্চে উঠে পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ১০ মিনিট অচল সংসদ মে মাসে কেমন থাকবে আবহাওয়া? ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও বাড়তে পারে তাপমাত্রা

হৃদ্‌রোগের আগে শরীরে কী ঘটে? ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ ও ঝুঁকির কারণগুলো

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হৃদ্‌রোগ হঠাৎ করে আসে না—অনেক সময় এর আগেই শরীরে নীরবে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাবস্থাকে বলা হয় এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন। এটি কোনো আলাদা রোগ নয়, বরং ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকির একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

কী এই এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন?

রক্তনালির ভেতরের দেয়ালে একটি সূক্ষ্ম আবরণ থাকে, যাকে এন্ডোথেলিয়াম বলা হয়। এটি রক্তনালিকে সুরক্ষিত রাখা, রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নালির সংকোচন–প্রসারণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন রক্তনালি শক্ত হয়ে যায়, প্রদাহ বাড়ে এবং রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর ফলে ধমনির ভেতরে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ‘প্লাক’ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ব্লকেজ সৃষ্টি করে—ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এন্ডোথেলিয়াম থেকে উৎপন্ন নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই ব্যবস্থা নষ্ট হলে রক্তনালি শক্ত হয়ে যায় এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ও জীবনযাপনগত কারণে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে—

*রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল
*ডায়াবেটিস রোগ
*ধূমপান ও নিকোটিন গ্রহণ
*অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
*শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের অভাব

এছাড়া বয়স ও হরমোনজনিত কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে গেলে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা কমে গিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনযাপনই এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ—

*ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
*সুষম খাদ্য গ্রহণ
*নিয়মিত শরীরচর্চা
*ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
*ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সচেতনতা ও জীবনধারার পরিবর্তনই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হৃদ্‌রোগের আগে শরীরে কী ঘটে? ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ ও ঝুঁকির কারণগুলো

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

হৃদ্‌রোগ হঠাৎ করে আসে না—অনেক সময় এর আগেই শরীরে নীরবে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাবস্থাকে বলা হয় এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন। এটি কোনো আলাদা রোগ নয়, বরং ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকির একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

কী এই এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন?

রক্তনালির ভেতরের দেয়ালে একটি সূক্ষ্ম আবরণ থাকে, যাকে এন্ডোথেলিয়াম বলা হয়। এটি রক্তনালিকে সুরক্ষিত রাখা, রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নালির সংকোচন–প্রসারণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন রক্তনালি শক্ত হয়ে যায়, প্রদাহ বাড়ে এবং রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর ফলে ধমনির ভেতরে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ‘প্লাক’ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ব্লকেজ সৃষ্টি করে—ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এন্ডোথেলিয়াম থেকে উৎপন্ন নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই ব্যবস্থা নষ্ট হলে রক্তনালি শক্ত হয়ে যায় এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ও জীবনযাপনগত কারণে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে—

*রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল
*ডায়াবেটিস রোগ
*ধূমপান ও নিকোটিন গ্রহণ
*অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
*শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের অভাব

এছাড়া বয়স ও হরমোনজনিত কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে গেলে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা কমে গিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনযাপনই এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ—

*ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
*সুষম খাদ্য গ্রহণ
*নিয়মিত শরীরচর্চা
*ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
*ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সচেতনতা ও জীবনধারার পরিবর্তনই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।