অজ্ঞাতপরিচয়ে দাফন, তদন্তে বেরিয়ে এলো প্রেমিকার পরিকল্পনায় হত্যা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ হিসেবে দাফন করা এক তরুণকে হত্যা করা হয়েছে প্রেমিকার পরিকল্পনায়—এমন তথ্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত তরুণ আল আদিয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বৃহস্পতিবার জানান, কেরানীগঞ্জ এলাকার এক তরুণ অপহরণের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত আদিয়াতের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি ঢাকায় এসে ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকতেন। তাঁর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের তুলারাম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই তরুণীর মামাবাড়ি ও আদিয়াতের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তাঁরা দূর সম্পর্কের আত্মীয়।
একপর্যায়ে আদিয়াত অন্য এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। বিষয়টি জানাজানি হলে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সম্পর্ক ভেঙে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণী তাঁর সৌদি আরবপ্রবাসী প্রেমিক মো. আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে আদিয়াতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ডিবি সূত্র জানায়, নভেম্বরের শুরুতে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন আরাফাত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই তরুণী আবার আদিয়াতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং গত ৩ নভেম্বর আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাঁকে নিয়ে বের হন। প্রথমে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় নেওয়া হলেও সিসিটিভি ক্যামেরা বেশি থাকায় পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।
পরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আদিয়াতকে নিয়ে টঙ্গীর উলুখোলা এলাকায় যান ওই তরুণী। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আরাফাত ও তাঁর সহযোগীরা আদিয়াতকে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। সন্ধ্যার পর গাজীপুরের পুবাইল এলাকার হাড়ীবাড়ীরটেকের নির্জন স্থানে চলন্ত অটোরিকশায় প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে আদিয়াতের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি মহাসড়কের একটি কালভার্টের পাশে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
পুলিশ জানায়, ৪ নভেম্বর পুবাইল থানা–পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আদিয়াতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে এবং পরিচয় না মেলায় তাঁকে গাজীপুরেই দাফন করা হয়।
নিহতের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি। পাশাপাশি ছেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পুনরায় দাফনের জন্য পুলিশের সহায়তা কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় থানার সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।






















