নির্বাচন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। এতে করে সাধারণ মানুষের মনেও যেমন স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গতি লক্ষ করা গেছে। তবে গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ফল সাধারণ মানুষের মনে ঘোষিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ সংলাপ আর জুলাই সনদ স্বাক্ষর আশায় জাগিয়েছিল রাষ্ট্র সংস্কারের। তবে জাতীয় জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে যেতে চায় না জামায়াত ও এনসিপি। এমন বাস্তবতায় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্যে নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন না পেছানোর স্বার্থে বিএনপি আরও ছাড় দেবে। তবে গণভোট আগে না নির্বাচনের দিন, এই দুই পক্ষেই অকাট্য যুক্তি দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হ্যাঁ-না মতামতের জটিল বিষয় বুঝতে জনগণকে সময় দেয়া প্রয়োজন হলেও নির্বাচনের দিন গণভোট সরকারকে সাংবিধানিক সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকে।
গণভোট কোনভাবেই নভেম্বরের মধ্যে হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ সাহান। সাংবিধানিক ৪৮টি বিষয় গণভোটে যাবার আগে তা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণার জন্য নির্বাচনের দিনে গণভোট হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে রহস্যময় আচরণ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিভিন্ন ইস্যুতে দলটি ঘন ঘন তাদের অবস্থান বদল করছে। যেমন জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট নিয়ে তারা প্রথমে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে রাজি ছিল, কিন্তু এরপর তারা অবস্থান পরিবর্তন করে। এখন তারা আগে গণভোট দাবি করে। নির্বাচন ও সংগঠনের চেয়ে এনসিপির তরুণরা এখন হুমকি এবং হতাশা প্রকাশ নিয়েই ব্যস্ত। কদিন আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সেফ এক্সিট নিয়ে কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। আগামী নির্বাচনে এনসিপি বড় ফ্যাক্টর না হলেও তারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। প্রতীক নিয়ে জটিলতার সমাধান না হলে তেমন কিছু করাটা অসম্ভব না। দলের প্রতীক নিয়ে জটিলতা এখন নির্বাচনি রাজনীতির এক নতুন আলোচ্য বিষয়। এনসিপি এখন পর্যন্ত শাপলা প্রতীকে অনড়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, আইনগত আদেশ দেয়ার এখতিয়ার প্রধান উপদেষ্টার নেই। এটা প্রেসিডেন্ট দিতে পারেন। উপদেষ্টা পরিষদ বিষয়টা চূড়ান্ত করার পরে এটা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে আসলেও আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
স্বাধীনতার পর দেশে এ পর্যন্ত গণভোট হয়েছে তিনবার। প্রথম দুটি ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রশাসনিক ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে। আর সবশেষ গণভোটটি ছিল ১৯৯১ সালে। যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থার বদলে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয় সংসদীয় গণতন্ত্র।
অতীতের প্রতিটি গণভোটেই জনগণের সামনে একটিমাত্র প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। কিন্তু এবার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে তা একাধিক সাংবিধানিক বিষয়ের ওপর জনতার রায় চাওয়া হবে। যা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণভোট নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনিশ্চয়তা বাড়বে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে গণভোট ইস্যুতে একমত হবার তাগিদ এই নির্বাচন বিশ্লেষকের।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলেন, গণভোট যখন হোক না কেন সেটা নভেম্বর, ডিসেম্বর বা ফেব্রুয়ারিতে হোক প্রতিটি দলকে এক জায়গায় আসতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে যে একটা নির্দিষ্ট তারিখ আমাদের দরকার। সেই তারিখটা না হলে পুরো প্রক্রিয়াটা স্থবির হয়ে যেতে পারে।























