ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক ফ্যাসিষ্ট পূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফের ব্যবসায়িক পার্টনার

গণপূর্ত’র শীর্ষ পদ দখলে মরিয়া প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা

আসাদ মাহমুদ ও আলমগীর হোসেন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ফ্যাসিষ্ট সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা। তিনি বর্তমানে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও বিশেষ প্রকল্প ইউংয়ের দায়িত্বে আছেন। এই প্রকৌশলী আ’লীগ সরকারের আমলে নির্বাহী তত্ত¡াবধায়ক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসা, ভুয়া বিল-ভাউচার, ভ্যারিয়েশন অনুমোদন, সিএস পাশ, টেন্ডার/টেক অনুমোন, বড় বড় প্রকল্পগুলোর নির্মাণ উপকরণ অনুমোদন, সারপ্রাইজ ভিজিটসহ বিবিধ প্রক্রিয়ায় বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্য করে বর্তমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন লোকেশনে দুই বা ততোধিক বিলাশবহুল এপার্টমেন্টসহ নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের আরাম-আয়েশ ও মনোরঞ্জনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাছুদ্দোহার নির্দেশে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতেন। ওই নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে গুলশানের ওয়েস্টিন ও হোটেল র‌্যাডিশন ওয়াটার গার্ডেনে সপ্তাহে ১ দিন জমজমাট পার্টি করে প্রতিমন্ত্রীকে খুশি রাখতেন। সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকার অনৈতিক লেনদেন হতো প্রতিনিয়ত। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রতিমন্ত্রীর বিদেশ ট্যুরের নামে প্রমোদ ভ্রমনের ব্যবস্থা করে দেন প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা সিন্ডিকেট। এ রকম আরো বহু অনৈতিক অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে গণপূর্তের এই ঊর্দ্ধতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি বøকে একটি বিলাশবহুল স্টুডিও ফ্ল্যাট, বারিধারায় আরো একটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট, জামালপুর জেলার শরিষাবাড়িতে একটি আলীশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং শরিষা বাড়িতে একদাগে দশ একর জমি ক্রয় করে সেখানে রিসোর্ট নির্মাণ করছেন, যা ২০২৫ সালে আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আজমকে দিয়ে উদ্বোধন করার কথা ছিল। এছাড়াও ঢাকার মোহাম্মদপুর টঙ্গাইল ও ময়মনসিংহে নামে-বেনামে জায়গা-জমিসহ বিভিন্ন ধরণের সহায়-সম্পদ থাকার তথ্যাদি পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, ঢাকার পল্টন মডেল থানার ছাত্র ও জনতা হত্যা মামলার আসামী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা। গত ৪ আগস্ট ২০২৪ইং তারিখে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর অফিস কক্ষে শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে আরও পাঁচশত ছাত্র হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থ যোগানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই মিটিংয়ে মোটা অংকের অর্থের যোগান দেন তিনি। প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলের গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ভ‚য়া মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ভায়রা ভাই। ২০১৬ সালে টিপু মুন্সি প্রধান প্রকৌশলী থাকতে সর্বাপেক্ষা লোভনীয় অধিক সংখ্যায় প্রকল্পের দপ্তর সাভার গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দায়িত্বে পোষ্টিং দেন তাকে। সে সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আবাসন প্রকল্পের দশ হাজার কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন করে কুশলী নির্মাতা, ঘউঊসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের কাজ পাইয়ে দিয়ে টেন্ডার বাণিজ্যের সিন্ডিকেট করে অর্ধ শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন শামছুদ্দোহা। একইসাথে মিরপুরে পাইকপাড়ায় এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প শিয়ালবাড়িতে গণপূর্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, মিপুর-৬-এ কাঠের কারখানা সাবডিভিশন প্রাঙ্গনে এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প, সাভারে জিনব্যাংক ভবন, বিপিএটিসিতে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে বিভিন্ন ধরণের নির্মাণ, আন্তজার্তিক প্রশিক্ষণ ভবনের আনুভ‚মিক সম্প্রাসারণ কাজসহ বিভিন্ন ধরণের বড় ভবন নির্মাণ, সাভারে হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট নির্মাণ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রাথমিক নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে এ্যাডভান্স বিলসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ হিসাবে বিরাট অংকের আর্থিক বাণিজ্য করেন এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা প্রকৌশলী।

বেপরোয়া অনিয়ম দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলোর প্রত্যেকটিতেই পরবর্তীতে অসংখ্য অডিট আপত্তি উঠে। ২০১৭ সালে টিপু মুন্সি চলে যাওয়ার পর আ’লীগের হুইফ মির্জা আজম এবং প্রথমে খাদ্য ও পরে কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগীতায় পোষ্টিং করিয়ে নেন ময়মনসিংহ সার্কেলে। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদ সরকারের ৩য় টার্মে শরীফ আহমেদ গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হলে তার সহযোগীতায় ময়মনসিংহ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন তিনি। ওই জোনের প্রতিটি ডিভিশনে প্রতিমন্ত্রী শরিফের আত্মীয়-স্বজনদের ঠিকাদারী লাইসেন্স বানিয়ে দিয়ে তাদের নামে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শতাধিক কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেন এই গুণধর প্রকৌশলী সামসুদ্দোহা। বিশেষ করে জামালপুর টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ কাজগুলো নিয়ে ওভার ইষ্টিমেট ও অপ্রয়োজনীয় ভ্যারিয়েশন অনুমোদন দিয়ে এই প্রকৌশলী হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের অর্থ।

তিনি নিজেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে গোপণে ঠিকাদারী ব্যবসা করেন সে সময়ে। মেসার্স নাঈমা এন্টারপ্রাইজ, ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, মেসার্স মুহিবুব এন্টারপ্রাইজ, ঢালী কনস্ট্রাকশন, ফজলুল হক হাজন, নুরানী কনস্ট্রাকশন, ফ্যাসিবাদ সরকারের মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান বিথী কনস্ট্রাকশনকে যেভাবে শত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন- এর তথ্য প্রমাণাদি এই প্রতিবেদকের হাতে আছে। বিশেষ করে মেসার্স নাঈমা এন্টারপ্রাইজ ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন ও ফজলুল হক হাজনের যোগ্যতা না থাকা সত্তে¡ও কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের অসংখ্য কাজ পাইয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত এই প্রকৌশলী।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহের দু’জন ঠিকাদার বলেন, সামছুদ্দোহার সাথে নাঈমা এন্টারপ্রাইজসহ উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপণে পার্টনারশীপে ব্যবসা ছিলো। এ কারণে আর্থিকভাবে অক্ষম থাকা সত্তে্বও তাদেরকে এ্যাডভান্স বিল দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তিনি। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিগত ৮ বছরে যে সকল কাজ বাস্তাবায়ন হয়েছে সেগুলোর সিএস ও ভ্যারিয়েশন যাচাই-বাছাই করলে বড় ধরণের আর্থিক দুর্নীতি বেড়িয়ে আসবে বলে ওই ঠিকাদারদ্বয় জানান। বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তীতে থাকছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।

এছাড়া, ছাত্র জীবনে শামছুদ্দোহা ময়মনসিংহ আনন্দমোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে বুয়েটে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচিত হন। এই শামছুদ্দোহা ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় রমনা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী, পরবর্তীতে অল্প কিছুদিন চট্টগ্রাম জোনের স্টাফ অফিসার (নির্বাহী প্রকৌশলী), নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ময়মনসিংহে প্রথমে তত্ত্বাবধায়ক পরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে থেকে প্রতিটি দপ্তরে স্বৈরাচার/ফ্যাসিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেন। পরে শরীফ আহমেদের বদন্যতায় ময়মনসিংহ জোনে দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। সেখানে তার (সামছুদ্দোহার) লুটপাটের অন্যতম সহযোগী ছিলেন ডিভিশনটির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু, টাঙ্গাইলের শম্ভুরাম পাল ও জামালপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী লুটেরা মোবারক হোসেন। ওই সময়ে প্রকৌশলী সামছুদ্দোহার একান্ত প্রচেষ্টায় ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে এপিপি বরাদ্দের চারগুণ বেশি বাগিয়ে নিয়ে হরিলুট চালান উভয়ে মিলে।

লাগাতার লুটপাটের কারণে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে বিশ কোটি টাকা বকেয়া সৃষ্টি করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের আস্কারায়। ওই সময়ে ময়মনসিংহ জোনের সকল ডিভিশনে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে কাজের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন শামছুদ্দোহা। স্বৈরাচার শরীফের লোকজনকে কাজ দিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার অনুমোদন দেন এই প্রকৌশলী।

উল্লেখিত ফ্যাসিবাদী মন্ত্রী-এমপি’র গোপণ নির্দেশে স্বৈরাচারের অন্যতম দোসর প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা অবৈধ টাকার বস্তা নিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব বাগিয়ে নেওয়ার জন্য সচিব উপদেস্টা ও প্রধান উপদেস্টার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে জোর লবিংগ্রæপিং করে আসছেন গত ১ মাস ধরে। তিনি ও তার সিন্ডিকেটের লোকেরা আদাজল খেয়ে নেমেছেন চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে সামছুদ্দোহাকে বসানোর জন্য। এজন্য টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ভিত্তিক কতিপয় প্রকৌশলী ৩০ কোটি টাকার গোপণ ফান্ড ম্যানেজ করেছেন বলে সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানান, এ রকম একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে বসালে অশান্ত হয়ে উঠবে গোটা ডিপার্টমেন্ট। প্রকৌশলীদের মধ্যে গ্রুপিং আরো বেশী করে বাড়বে। অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। মান-সম্মান ভাবমূর্তি নষ্ট হবে গণপূর্ত প্রকৌশলীদের।

শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও নিজ জেলা জামালপুরের সাবেক হুইপ মির্জা আজমের হাত ধরে ২০১২০ সালে মোসলেহ উদ্দিনকে সরিয়ে ঢাকা গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পোস্টিং বাগিয়ে নেন। তারপর পুনরায় মিরপুর ও সাভারের বড় বড় প্রকল্পসহ মানিকগঞ্জ গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ মতিঝিল এজিবি কলোনী ও আজিমপুরে ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজে ফাইনাল লুটপাট চালান অসংখ্য প্রয়োজনীয় কাজের ভ্যারিয়েশন অনুমোদন দিয়ে। পরবর্তীতে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের একটি আলোচিত একশত বিশ কোটি টাকার টেন্ডার আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সিন্ডিকেটকে পাইয়ে দেন এই প্রকৌশলী। তখন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন অযোগ্য অথর্ব হিসাবে পরিচিত নাসির উদ্দিন খান। নাসির উদ্দিন খান শামছুদ্দোহার প্রভাবে মাছ চুরির মত জঘণ্য অপরাধ ঘটিয়ে প্রথম সারির বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম হন ওই সময়ে।

বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী সামছুদ্দোহার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার হোয়াটস্ এ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাবেক ফ্যাসিষ্ট পূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফের ব্যবসায়িক পার্টনার

গণপূর্ত’র শীর্ষ পদ দখলে মরিয়া প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ফ্যাসিষ্ট সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা। তিনি বর্তমানে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও বিশেষ প্রকল্প ইউংয়ের দায়িত্বে আছেন। এই প্রকৌশলী আ’লীগ সরকারের আমলে নির্বাহী তত্ত¡াবধায়ক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসা, ভুয়া বিল-ভাউচার, ভ্যারিয়েশন অনুমোদন, সিএস পাশ, টেন্ডার/টেক অনুমোন, বড় বড় প্রকল্পগুলোর নির্মাণ উপকরণ অনুমোদন, সারপ্রাইজ ভিজিটসহ বিবিধ প্রক্রিয়ায় বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্য করে বর্তমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন লোকেশনে দুই বা ততোধিক বিলাশবহুল এপার্টমেন্টসহ নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের আরাম-আয়েশ ও মনোরঞ্জনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাছুদ্দোহার নির্দেশে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতেন। ওই নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে গুলশানের ওয়েস্টিন ও হোটেল র‌্যাডিশন ওয়াটার গার্ডেনে সপ্তাহে ১ দিন জমজমাট পার্টি করে প্রতিমন্ত্রীকে খুশি রাখতেন। সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকার অনৈতিক লেনদেন হতো প্রতিনিয়ত। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রতিমন্ত্রীর বিদেশ ট্যুরের নামে প্রমোদ ভ্রমনের ব্যবস্থা করে দেন প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা সিন্ডিকেট। এ রকম আরো বহু অনৈতিক অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে গণপূর্তের এই ঊর্দ্ধতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি বøকে একটি বিলাশবহুল স্টুডিও ফ্ল্যাট, বারিধারায় আরো একটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট, জামালপুর জেলার শরিষাবাড়িতে একটি আলীশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং শরিষা বাড়িতে একদাগে দশ একর জমি ক্রয় করে সেখানে রিসোর্ট নির্মাণ করছেন, যা ২০২৫ সালে আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আজমকে দিয়ে উদ্বোধন করার কথা ছিল। এছাড়াও ঢাকার মোহাম্মদপুর টঙ্গাইল ও ময়মনসিংহে নামে-বেনামে জায়গা-জমিসহ বিভিন্ন ধরণের সহায়-সম্পদ থাকার তথ্যাদি পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, ঢাকার পল্টন মডেল থানার ছাত্র ও জনতা হত্যা মামলার আসামী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা। গত ৪ আগস্ট ২০২৪ইং তারিখে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর অফিস কক্ষে শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে আরও পাঁচশত ছাত্র হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থ যোগানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই মিটিংয়ে মোটা অংকের অর্থের যোগান দেন তিনি। প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলের গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ভ‚য়া মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ভায়রা ভাই। ২০১৬ সালে টিপু মুন্সি প্রধান প্রকৌশলী থাকতে সর্বাপেক্ষা লোভনীয় অধিক সংখ্যায় প্রকল্পের দপ্তর সাভার গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দায়িত্বে পোষ্টিং দেন তাকে। সে সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আবাসন প্রকল্পের দশ হাজার কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন করে কুশলী নির্মাতা, ঘউঊসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের কাজ পাইয়ে দিয়ে টেন্ডার বাণিজ্যের সিন্ডিকেট করে অর্ধ শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন শামছুদ্দোহা। একইসাথে মিরপুরে পাইকপাড়ায় এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প শিয়ালবাড়িতে গণপূর্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, মিপুর-৬-এ কাঠের কারখানা সাবডিভিশন প্রাঙ্গনে এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প, সাভারে জিনব্যাংক ভবন, বিপিএটিসিতে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে বিভিন্ন ধরণের নির্মাণ, আন্তজার্তিক প্রশিক্ষণ ভবনের আনুভ‚মিক সম্প্রাসারণ কাজসহ বিভিন্ন ধরণের বড় ভবন নির্মাণ, সাভারে হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট নির্মাণ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রাথমিক নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে এ্যাডভান্স বিলসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ হিসাবে বিরাট অংকের আর্থিক বাণিজ্য করেন এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা প্রকৌশলী।

বেপরোয়া অনিয়ম দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলোর প্রত্যেকটিতেই পরবর্তীতে অসংখ্য অডিট আপত্তি উঠে। ২০১৭ সালে টিপু মুন্সি চলে যাওয়ার পর আ’লীগের হুইফ মির্জা আজম এবং প্রথমে খাদ্য ও পরে কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগীতায় পোষ্টিং করিয়ে নেন ময়মনসিংহ সার্কেলে। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদ সরকারের ৩য় টার্মে শরীফ আহমেদ গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হলে তার সহযোগীতায় ময়মনসিংহ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন তিনি। ওই জোনের প্রতিটি ডিভিশনে প্রতিমন্ত্রী শরিফের আত্মীয়-স্বজনদের ঠিকাদারী লাইসেন্স বানিয়ে দিয়ে তাদের নামে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শতাধিক কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেন এই গুণধর প্রকৌশলী সামসুদ্দোহা। বিশেষ করে জামালপুর টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ কাজগুলো নিয়ে ওভার ইষ্টিমেট ও অপ্রয়োজনীয় ভ্যারিয়েশন অনুমোদন দিয়ে এই প্রকৌশলী হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের অর্থ।

তিনি নিজেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে গোপণে ঠিকাদারী ব্যবসা করেন সে সময়ে। মেসার্স নাঈমা এন্টারপ্রাইজ, ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, মেসার্স মুহিবুব এন্টারপ্রাইজ, ঢালী কনস্ট্রাকশন, ফজলুল হক হাজন, নুরানী কনস্ট্রাকশন, ফ্যাসিবাদ সরকারের মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান বিথী কনস্ট্রাকশনকে যেভাবে শত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন- এর তথ্য প্রমাণাদি এই প্রতিবেদকের হাতে আছে। বিশেষ করে মেসার্স নাঈমা এন্টারপ্রাইজ ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন ও ফজলুল হক হাজনের যোগ্যতা না থাকা সত্তে¡ও কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের অসংখ্য কাজ পাইয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত এই প্রকৌশলী।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহের দু’জন ঠিকাদার বলেন, সামছুদ্দোহার সাথে নাঈমা এন্টারপ্রাইজসহ উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপণে পার্টনারশীপে ব্যবসা ছিলো। এ কারণে আর্থিকভাবে অক্ষম থাকা সত্তে্বও তাদেরকে এ্যাডভান্স বিল দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তিনি। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিগত ৮ বছরে যে সকল কাজ বাস্তাবায়ন হয়েছে সেগুলোর সিএস ও ভ্যারিয়েশন যাচাই-বাছাই করলে বড় ধরণের আর্থিক দুর্নীতি বেড়িয়ে আসবে বলে ওই ঠিকাদারদ্বয় জানান। বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তীতে থাকছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।

এছাড়া, ছাত্র জীবনে শামছুদ্দোহা ময়মনসিংহ আনন্দমোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে বুয়েটে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচিত হন। এই শামছুদ্দোহা ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় রমনা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী, পরবর্তীতে অল্প কিছুদিন চট্টগ্রাম জোনের স্টাফ অফিসার (নির্বাহী প্রকৌশলী), নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ময়মনসিংহে প্রথমে তত্ত্বাবধায়ক পরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে থেকে প্রতিটি দপ্তরে স্বৈরাচার/ফ্যাসিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেন। পরে শরীফ আহমেদের বদন্যতায় ময়মনসিংহ জোনে দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। সেখানে তার (সামছুদ্দোহার) লুটপাটের অন্যতম সহযোগী ছিলেন ডিভিশনটির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু, টাঙ্গাইলের শম্ভুরাম পাল ও জামালপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী লুটেরা মোবারক হোসেন। ওই সময়ে প্রকৌশলী সামছুদ্দোহার একান্ত প্রচেষ্টায় ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে এপিপি বরাদ্দের চারগুণ বেশি বাগিয়ে নিয়ে হরিলুট চালান উভয়ে মিলে।

লাগাতার লুটপাটের কারণে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে বিশ কোটি টাকা বকেয়া সৃষ্টি করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের আস্কারায়। ওই সময়ে ময়মনসিংহ জোনের সকল ডিভিশনে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে কাজের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন শামছুদ্দোহা। স্বৈরাচার শরীফের লোকজনকে কাজ দিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার অনুমোদন দেন এই প্রকৌশলী।

উল্লেখিত ফ্যাসিবাদী মন্ত্রী-এমপি’র গোপণ নির্দেশে স্বৈরাচারের অন্যতম দোসর প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা অবৈধ টাকার বস্তা নিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব বাগিয়ে নেওয়ার জন্য সচিব উপদেস্টা ও প্রধান উপদেস্টার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে জোর লবিংগ্রæপিং করে আসছেন গত ১ মাস ধরে। তিনি ও তার সিন্ডিকেটের লোকেরা আদাজল খেয়ে নেমেছেন চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে সামছুদ্দোহাকে বসানোর জন্য। এজন্য টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ভিত্তিক কতিপয় প্রকৌশলী ৩০ কোটি টাকার গোপণ ফান্ড ম্যানেজ করেছেন বলে সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানান, এ রকম একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে বসালে অশান্ত হয়ে উঠবে গোটা ডিপার্টমেন্ট। প্রকৌশলীদের মধ্যে গ্রুপিং আরো বেশী করে বাড়বে। অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। মান-সম্মান ভাবমূর্তি নষ্ট হবে গণপূর্ত প্রকৌশলীদের।

শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও নিজ জেলা জামালপুরের সাবেক হুইপ মির্জা আজমের হাত ধরে ২০১২০ সালে মোসলেহ উদ্দিনকে সরিয়ে ঢাকা গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পোস্টিং বাগিয়ে নেন। তারপর পুনরায় মিরপুর ও সাভারের বড় বড় প্রকল্পসহ মানিকগঞ্জ গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ মতিঝিল এজিবি কলোনী ও আজিমপুরে ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজে ফাইনাল লুটপাট চালান অসংখ্য প্রয়োজনীয় কাজের ভ্যারিয়েশন অনুমোদন দিয়ে। পরবর্তীতে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের একটি আলোচিত একশত বিশ কোটি টাকার টেন্ডার আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সিন্ডিকেটকে পাইয়ে দেন এই প্রকৌশলী। তখন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন অযোগ্য অথর্ব হিসাবে পরিচিত নাসির উদ্দিন খান। নাসির উদ্দিন খান শামছুদ্দোহার প্রভাবে মাছ চুরির মত জঘণ্য অপরাধ ঘটিয়ে প্রথম সারির বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম হন ওই সময়ে।

বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী সামছুদ্দোহার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার হোয়াটস্ এ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।