ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিবাদের মুখে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি সাংবাদিক লিয়াকত হোসাইন লায়নের পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭ ষড়যন্ত্রকারীদের একে একে জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তিই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি: প্রতিমন্ত্রী অমিত নদী থেকে ঘের ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার টাঙ্গাইলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ডিআরইউ মিডিয়া কাপ ক্রিকেটের স্পনসর হলো ওয়ালটন হাম পরিস্থিতির অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু বিনা খরচে ওমরাহর সুযোগ দিচ্ছে সৌদি, আবেদন করবেন যেভাবে

রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষক পাচ্ছেন বিনামূল্যে বীজ-সার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমে সাতটি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।

গত ২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরিষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

এ ছাড়া চিনাবাদাম চাষে ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অড়হরে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচন হবে কৃষক

আদেশে বলা হয়েছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে অর্থ বণ্টন করবে। পরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।

একটি কৃষক পরিবার সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য প্রণোদনা পাবে। একই পরিবারকে একাধিক ফসলের জন্য এ সহায়তা দেওয়া যাবে না।

এক বিঘা জমির জন্য একজন কৃষক সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি অথবা অড়হরের দুই কেজি বীজ পাবেন।

ফসলভেদে সারের পরিমাণ

সার বিতরণের ক্ষেত্রেও ফসল অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি এবং ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে চিনাবাদাম, মুগ, মসুর ও খেসারি চাষের ক্ষেত্রে ১০ জনের একটি পুলে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি এবং ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ থাকবে। অড়হর চাষের ক্ষেত্রেও ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য একই পরিমাণ সার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে একটি পুল গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ১০ বিঘা বা তার বেশি জমিতে ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন এলাকাকে কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

বিতরণে থাকছে নজরদারি

উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিখে রাখতে হবে এবং উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কৃষকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে। তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কাউকে উপকরণ দেওয়া যাবে না। কৃষককে নিজে উপস্থিত হয়ে উপকরণ গ্রহণ করতে হবে।

উপকারভোগীদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। উপকরণ বিতরণ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ফসল কর্তন শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (পিপিএ), সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর) এবং প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও অব্যয়িত অর্থ ফেরতের চালানের অনুলিপিও নির্ধারিত সময়ে পাঠাতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচিতে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি বিতরণ করা বীজ ও সারের মান নিশ্চিত করা, উপকরণ বিতরণ ও অর্থ ব্যয়ের প্রক্রিয়া নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং অন্যান্য চলমান পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে যেন দ্বৈততা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষক পাচ্ছেন বিনামূল্যে বীজ-সার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমে সাতটি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।

গত ২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরিষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

এ ছাড়া চিনাবাদাম চাষে ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অড়হরে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচন হবে কৃষক

আদেশে বলা হয়েছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে অর্থ বণ্টন করবে। পরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।

একটি কৃষক পরিবার সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য প্রণোদনা পাবে। একই পরিবারকে একাধিক ফসলের জন্য এ সহায়তা দেওয়া যাবে না।

এক বিঘা জমির জন্য একজন কৃষক সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি অথবা অড়হরের দুই কেজি বীজ পাবেন।

ফসলভেদে সারের পরিমাণ

সার বিতরণের ক্ষেত্রেও ফসল অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি এবং ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে চিনাবাদাম, মুগ, মসুর ও খেসারি চাষের ক্ষেত্রে ১০ জনের একটি পুলে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি এবং ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ থাকবে। অড়হর চাষের ক্ষেত্রেও ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য একই পরিমাণ সার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে একটি পুল গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ১০ বিঘা বা তার বেশি জমিতে ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন এলাকাকে কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

বিতরণে থাকছে নজরদারি

উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিখে রাখতে হবে এবং উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কৃষকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে। তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কাউকে উপকরণ দেওয়া যাবে না। কৃষককে নিজে উপস্থিত হয়ে উপকরণ গ্রহণ করতে হবে।

উপকারভোগীদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। উপকরণ বিতরণ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ফসল কর্তন শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (পিপিএ), সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর) এবং প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও অব্যয়িত অর্থ ফেরতের চালানের অনুলিপিও নির্ধারিত সময়ে পাঠাতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচিতে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি বিতরণ করা বীজ ও সারের মান নিশ্চিত করা, উপকরণ বিতরণ ও অর্থ ব্যয়ের প্রক্রিয়া নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং অন্যান্য চলমান পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে যেন দ্বৈততা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।