ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চিকিৎসক, নার্স নাকি দালাল—চেনা দায়, বললেন দুদক চেয়ারম্যান ২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী জয়পুরহাটে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ: আরোহী নিহত ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ঘরভর্তি ইলেকট্রনিক্স পণ্য পেলেন চট্টগ্রামের রীমা পিকআপের বডিতে লুকানো ৬২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে নাহিদ ইসলামকে লিগ্যাল নোটিশ শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জামিনের দিনেই নতুন বিতর্কে পরীমনি, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ফেসবুক পোস্ট চীনা বিনিয়োগে মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়তে চায় সরকার প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিস বলায় সমালোচনা, প্রত্যাহার সচিব

২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেই উদ্যোগ ভেস্তে দিতে চায়। এদের বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।

তিনি বলেন, এখন সময় দেশ গঠনের, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিল্পকারখানায় হামলা-ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষ, তাঁদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই শিল্পকারখানা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলেও প্রত্যাশা তাঁর।

সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে সরকার দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে।

তিনি বলেন, তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

পথসভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেই উদ্যোগ ভেস্তে দিতে চায়। এদের বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।

তিনি বলেন, এখন সময় দেশ গঠনের, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিল্পকারখানায় হামলা-ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষ, তাঁদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই শিল্পকারখানা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলেও প্রত্যাশা তাঁর।

সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে সরকার দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে।

তিনি বলেন, তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

পথসভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।