মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির আভাস, সমর্থন নেমে ৩৬ শতাংশে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধাক্কার ইঙ্গিত মিলেছে এক জনমত জরিপে। মার্কিন অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলাতে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে ভোটারদের মধ্যে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের যৌথ জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁদের অসন্তোষের প্রভাব মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জরিপের ফলাফলই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
জরিপে মোট ৩ হাজার ৪৯৪ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প নিজের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন।
অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ
জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ।
জরিপ অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ ভোটার গ্যাসের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ৬৯ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ শতাংশ ভোটার।
এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সমর্থন কমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ মানুষ এ যুদ্ধের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ভোটারদের অসন্তোষ মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরান যুদ্ধেও কমছে সমর্থন
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন কমার ইঙ্গিত মিলেছে বিভিন্ন জরিপে।
আগের একটি জরিপে দেখা গিয়েছিল, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের মার্চের জরিপে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ; চলতি মাসের শুরুর দিকে তা কমে ৩৪ শতাংশে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজেদের রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের মধ্যেও ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমে আসা সামগ্রিক জনমতের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ওয়াইওমিং, আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া—এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ইতিবাচক রয়েছে। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে তাঁর নির্বাচনী অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
জরিপ কি নির্বাচনের ফল বলে দিতে পারে?
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার এই চিত্র রিপাবলিকান পার্টির জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য পরিণতি এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। জনমত জরিপে ভোটারদের বর্তমান মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে; কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোটারদের উপস্থিতি, স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
অতীতেও বিভিন্ন জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে প্রকৃত নির্বাচনী ফলাফলের পার্থক্য দেখা গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে জরিপের প্রবণতা নির্বাচনের ফলের সঙ্গেও মিলে গেছে।
ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপ রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা হলেও শেষ পর্যন্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটি কতটা আসন হারাবে, তা নির্ভর করবে ভোটের প্রকৃত ফলাফলের ওপর।





















