ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফেরা হবে না’, ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় পুলিশের ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজার, নতুন ২৪ হাজার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ টাঙ্গাইল সদর কোর্ট পরিদর্শনে পুলিশ সুপার কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: আমতলীর একই পরিবারের ৩ জন নিহত জুড়ীতে ৬০০ নারী চা-শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ পাবনায় আমগাছের ডাল কাটতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু  আসামি ছাড়াতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন প্রতিবন্ধী ভাতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দর্শকের মৃত্যু ৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন, শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকায় মুক্ত ককরোচ-প্রধান

পুলিশের ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজার, নতুন ২৪ হাজার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে জননিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশের জনবল ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি। এই সংকট সামাল দিতে নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কনস্টেবল, উপপরিদর্শক (এসআই), সার্জেন্ট ও সহকারী পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পদে জনবল বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এখনো শেষ হয়নি প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আঞ্চলিক মানদণ্ড অনুযায়ী ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন। বিপরীতে, পুলিশের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি। পুলিশবহির্ভূত পদসহ মোট অনুমোদিত জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি। এই হিসাবেই পুলিশের জনবল ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জনে।

প্রস্তাবিত নতুন পদগুলো অনুমোদিত হলেও সংকট পুরোপুরি কাটবে না। হিসাব অনুযায়ী, সব কটি পদ বর্তমান অনুমোদিত জনবলের সঙ্গে যুক্ত হলে ঘাটতি কমে দাঁড়াবে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৭ জনে। অর্থাৎ, নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ জনবল সংকট কমাতে সহায়ক হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশের ঘাটতি থেকেই যাবে।

অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে জননিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা কঠিন। মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ তুলনায় বাংলাদেশে পুলিশের জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।

তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ ইতিবাচক।

কনস্টেবল ১০ হাজার, এসআই ৪ হাজার

প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার এসআইয়ের পদ রয়েছে। এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ৪০০টি সার্জেন্ট ও ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করতেও নতুন পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্পের জনবল চাহিদা পূরণে আরও ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ রয়েছে। বাকি পদগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রয়োজন বিবেচনায় প্রস্তাব প্রস্তুত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অনুমোদনই এখন বড় ধাপ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পুলিশের জনবল নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানদণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের শান্তিকালীন প্রতি ৪০ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্যের অনুপাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের জনবল ঘাটতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রস্তাব তৈরি ও অনুমোদন এক বিষয় নয়। নতুন পদ সৃষ্টির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। এরপর নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে প্রস্তাবিত জনবল মাঠপর্যায়ে যুক্ত হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জনবল বাড়ানো গেলে অপরাধ প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আইন প্রয়োগ এবং নাগরিকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে থানা ও মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোতে দায়িত্ব পালনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সংখ্যার হিসাবে স্পষ্ট, ২৪ হাজার ৬৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টি করেই পুলিশের জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় ঘাটতি থাকবে এক লাখের বেশি। ফলে তাৎক্ষণিক পদ সৃষ্টির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনা ও পর্যায়ক্রমে নিয়োগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পুলিশের ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজার, নতুন ২৪ হাজার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে জননিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশের জনবল ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি। এই সংকট সামাল দিতে নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কনস্টেবল, উপপরিদর্শক (এসআই), সার্জেন্ট ও সহকারী পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পদে জনবল বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এখনো শেষ হয়নি প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আঞ্চলিক মানদণ্ড অনুযায়ী ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন। বিপরীতে, পুলিশের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি। পুলিশবহির্ভূত পদসহ মোট অনুমোদিত জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি। এই হিসাবেই পুলিশের জনবল ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জনে।

প্রস্তাবিত নতুন পদগুলো অনুমোদিত হলেও সংকট পুরোপুরি কাটবে না। হিসাব অনুযায়ী, সব কটি পদ বর্তমান অনুমোদিত জনবলের সঙ্গে যুক্ত হলে ঘাটতি কমে দাঁড়াবে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৭ জনে। অর্থাৎ, নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ জনবল সংকট কমাতে সহায়ক হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশের ঘাটতি থেকেই যাবে।

অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে জননিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা কঠিন। মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ তুলনায় বাংলাদেশে পুলিশের জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।

তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ ইতিবাচক।

কনস্টেবল ১০ হাজার, এসআই ৪ হাজার

প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার এসআইয়ের পদ রয়েছে। এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ৪০০টি সার্জেন্ট ও ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করতেও নতুন পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্পের জনবল চাহিদা পূরণে আরও ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ রয়েছে। বাকি পদগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রয়োজন বিবেচনায় প্রস্তাব প্রস্তুত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অনুমোদনই এখন বড় ধাপ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পুলিশের জনবল নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানদণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের শান্তিকালীন প্রতি ৪০ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্যের অনুপাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের জনবল ঘাটতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রস্তাব তৈরি ও অনুমোদন এক বিষয় নয়। নতুন পদ সৃষ্টির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। এরপর নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে প্রস্তাবিত জনবল মাঠপর্যায়ে যুক্ত হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জনবল বাড়ানো গেলে অপরাধ প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আইন প্রয়োগ এবং নাগরিকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে থানা ও মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোতে দায়িত্ব পালনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সংখ্যার হিসাবে স্পষ্ট, ২৪ হাজার ৬৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টি করেই পুলিশের জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় ঘাটতি থাকবে এক লাখের বেশি। ফলে তাৎক্ষণিক পদ সৃষ্টির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনা ও পর্যায়ক্রমে নিয়োগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।