ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টাঙ্গাইল সদর কোর্ট পরিদর্শনে পুলিশ সুপার কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: আমতলীর একই পরিবারের ৩ জন নিহত জুড়ীতে ৬০০ নারী চা-শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ পাবনায় আমগাছের ডাল কাটতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু  আসামি ছাড়াতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন প্রতিবন্ধী ভাতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দর্শকের মৃত্যু ৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন, শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকায় মুক্ত ককরোচ-প্রধান সংবিধান সংস্কারে নতুন পরিষদের দাবি এনসিপির, সংশোধন কমিটিতে ‘না’ সৌদি আরবে হামলার জের: রিয়াদে বিমানের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: আমতলীর একই পরিবারের ৩ জন নিহত

বরগুনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামে। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। নিহত অপর চারজনও তাঁদের স্বজন। এ ঘটনায় আমতলীর কালিপুরা গ্রামসহ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য পরিবারের সদস্যরা শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত তিনজন হলেন আমতলী উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ। নিহত অপর চারজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তাঁদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায়। তাঁরা কবির তালুকদারের ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

কবির তালুকদার জানান, তাঁর জামাতা নুরে আলম, মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ, নাতি ফাইজান আহম্মেদ এবং ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যসহ সাতজন গত বৃহস্পতিবার আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে যান। সেখানে তাঁরা টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তবে তাঁর জামাতা নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে আসেন।

শনিবার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনজন জানালা ভেঙে বাইরে বের হতে পারলেও বাকি সাতজন বের হতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত কৌশিক জেরিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

একসঙ্গে ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর ভায়রার পরিবারের চারজন মারা গেছেন।”

ঘটনাটি সম্পর্কে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। পরিবার সহায়তা চাইলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

একই পরিবারের তিন সদস্যসহ স্বজনদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমতলীর কালিপুরা গ্রাম ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: আমতলীর একই পরিবারের ৩ জন নিহত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামে। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। নিহত অপর চারজনও তাঁদের স্বজন। এ ঘটনায় আমতলীর কালিপুরা গ্রামসহ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য পরিবারের সদস্যরা শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত তিনজন হলেন আমতলী উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ। নিহত অপর চারজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তাঁদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায়। তাঁরা কবির তালুকদারের ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

কবির তালুকদার জানান, তাঁর জামাতা নুরে আলম, মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ, নাতি ফাইজান আহম্মেদ এবং ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যসহ সাতজন গত বৃহস্পতিবার আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে যান। সেখানে তাঁরা টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তবে তাঁর জামাতা নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে আসেন।

শনিবার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনজন জানালা ভেঙে বাইরে বের হতে পারলেও বাকি সাতজন বের হতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত কৌশিক জেরিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

একসঙ্গে ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর ভায়রার পরিবারের চারজন মারা গেছেন।”

ঘটনাটি সম্পর্কে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। পরিবার সহায়তা চাইলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

একই পরিবারের তিন সদস্যসহ স্বজনদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমতলীর কালিপুরা গ্রাম ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।