মন্ত্রীকে না জানিয়ে খাদ্যগুদাম পরিদর্শন, দায়িত্ব হারালেন এপিএস

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমকে না জানিয়ে সরকারি সফরসূচি তৈরি করে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব হারিয়েছেন তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আবদুল আওয়াল বুলবুল। এ সফরসূচি তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন আবদুল আওয়াল। এ সফরের জন্য ৮ অক্টোবর রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে একটি সরকারি সফরসূচির নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এপিএসের নিজ বাসা থেকে যাত্রা শুরু করে পরিদর্শন শেষে আবার বাসায় ফেরার কর্মসূচি উল্লেখ করা হয়।
সফরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে অনুলিপি দেওয়া হয় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককেও। ওই সফরে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সফরসূচি ঘিরে মন্ত্রণালয়ে অসন্তোষ
মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, এপিএসের খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের বিষয়টি খাদ্যমন্ত্রী আগে থেকে জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সফরের পরদিন আবদুল আওয়ালকে নিজের কক্ষে ডেকে অফিস থেকে চলে যেতে বলেন মন্ত্রী। এরপর তাঁকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এপিএস হিসেবে এ ধরনের কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। তবে সফরটি কোন কর্তৃত্বে আয়োজন করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী বিবেচনায় এতে অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
সফরসূচি তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাবে তাঁকে কী ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে আবদুল আওয়ালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, তাঁকে না জানিয়ে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যাওয়ায় আবদুল আওয়ালকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সফরসূচি তৈরি, দাপ্তরিক সমন্বয় এবং সরকারি যানবাহন ও জ্বালানির ব্যবস্থা—এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও দায়িত্বের সীমা কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো সরকারি অর্থের অপচয় বা বিধিবহির্ভূত সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।























