ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাস্তবায়নে তৎপরতা বেড়েছে

৩,৪০৯ কোটি টাকার নতুন সচিবালয়!

দেবব্রত দত্ত
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা বেড়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে, প্রস্তুত করা হয়েছে প্রাথমিক লে-আউট, প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে একাধিক নকশাও। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগোচ্ছে। তবে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার এই বড় প্রকল্পের ব্যয়, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরে নতুন সচিবালয় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায়। ফলে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শুরু এবং প্রথম ধাপে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

নির্দেশনা থেকে প্রকল্প: কত দূর এগিয়েছে প্রস্তুতি?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনাকে প্রকল্পের কাঠামোয় আনার কাজ শুরু হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক লে-আউট তৈরি করেছে। অন্যদিকে, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের নকশা তৈরির দায়িত্বে থাকা স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নকশা দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রাথমিক নকশা ও ডিপিপি তৈরির অগ্রগতি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের সমতুল্য নয়। নির্মাণকাজ শুরুর আগে প্রকল্পের ব্যয়, নকশা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

৩,৪০৯ কোটি টাকার প্রকল্প, এখনো চূড়ান্ত নয় ব্যয়

প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

এখানেই প্রকল্পটির সামনে বড় প্রশাসনিক ধাপটি রয়েছে। এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া মানেই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়ে যাওয়া নয়। একইভাবে, প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের অর্থও এই নয় যে চূড়ান্ত ব্যয় আর পরিবর্তিত হবে না।

প্রকল্পের ব্যয় কোন কোন অবকাঠামো, ভবন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হবে, তার বিস্তারিত হিসাব এবং অর্থায়নের চূড়ান্ত কাঠামো সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে প্রাথমিক ব্যয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয়ের পার্থক্য থাকবে কি না, তা জানতে ডিপিপি ও অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ডিসেম্বরেই ভিত্তিপ্রস্তর, সামনে একনেকের পরীক্ষা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকের সভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রাথমিক লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। কিন্তু এর আগে প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, ব্যয় ও নকশা চূড়ান্তকরণ এবং একনেকের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে নির্ধারণের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ওই সময়সীমা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এ কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ঘোষিত সময়সীমা নয়, অনুমোদনের প্রকৃত অবস্থা এবং নির্মাণ শুরুর পূর্বশর্তগুলো কত দ্রুত পূরণ হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিন বছরে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন সচিবালয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন কমপ্লেক্সের সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থানান্তর করতে আরও সময় লাগতে পারে।

নতুন সচিবালয় নির্মাণ শুধু ভবন তৈরির প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, মন্ত্রণালয়গুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত এবং নাগরিকদের সরকারি সেবা পাওয়ার বিষয়ও যুক্ত। ফলে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি এসব বিষয় কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা বাস্তবায়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে প্রথম ধাপে কোন কোন মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হবে, স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী এবং নতুন কমপ্লেক্সে কী পরিমাণ প্রশাসনিক সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

পুরান সচিবালয়ে নিম্ন আদালত: দ্বিতীয় পরিকল্পনার বাস্তবতা কী?

নতুন সচিবালয় নির্মাণের সঙ্গে বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও যুক্ত রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক ও বিচারিক অবকাঠামোর ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বর্তমান সচিবালয় খালি করার সময়সূচি, আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের ওপর।

নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও পুরান সচিবালয়ে আদালত স্থানান্তর—দুটি পরিকল্পনা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পৃথক প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে। একটি প্রকল্পের অগ্রগতি অন্যটির সময়সূচিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা সামনে আসা জরুরি।

বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই হবে অনুমোদন ও সময়সূচিতে

নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগে প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়েছে—ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে, ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ধারণ করবে কয়েকটি বিষয়: চূড়ান্ত ব্যয় অনুমোদন, একনেকের সিদ্ধান্ত, নকশা চূড়ান্তকরণ, অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু করা।

৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পে সময়সীমা ও ব্যয়ের হিসাব কতটা বাস্তবসম্মত, নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কীভাবে অগ্রগতি যাচাই করা হবে এবং প্রথম ধাপে মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য কীভাবে পূরণ করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকল্পের চূড়ান্ত নথি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা। এখন দেখার বিষয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রাথমিক প্রস্তুতি কত দ্রুত চূড়ান্ত অনুমোদনে পৌঁছায় এবং সেই অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাস্তবায়নে তৎপরতা বেড়েছে

৩,৪০৯ কোটি টাকার নতুন সচিবালয়!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা বেড়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে, প্রস্তুত করা হয়েছে প্রাথমিক লে-আউট, প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে একাধিক নকশাও। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগোচ্ছে। তবে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার এই বড় প্রকল্পের ব্যয়, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বরে নতুন সচিবালয় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায়। ফলে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শুরু এবং প্রথম ধাপে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

নির্দেশনা থেকে প্রকল্প: কত দূর এগিয়েছে প্রস্তুতি?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনাকে প্রকল্পের কাঠামোয় আনার কাজ শুরু হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক লে-আউট তৈরি করেছে। অন্যদিকে, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের নকশা তৈরির দায়িত্বে থাকা স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নকশা দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রাথমিক নকশা ও ডিপিপি তৈরির অগ্রগতি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের সমতুল্য নয়। নির্মাণকাজ শুরুর আগে প্রকল্পের ব্যয়, নকশা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

৩,৪০৯ কোটি টাকার প্রকল্প, এখনো চূড়ান্ত নয় ব্যয়

প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

এখানেই প্রকল্পটির সামনে বড় প্রশাসনিক ধাপটি রয়েছে। এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া মানেই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়ে যাওয়া নয়। একইভাবে, প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের অর্থও এই নয় যে চূড়ান্ত ব্যয় আর পরিবর্তিত হবে না।

প্রকল্পের ব্যয় কোন কোন অবকাঠামো, ভবন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হবে, তার বিস্তারিত হিসাব এবং অর্থায়নের চূড়ান্ত কাঠামো সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে প্রাথমিক ব্যয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয়ের পার্থক্য থাকবে কি না, তা জানতে ডিপিপি ও অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ডিসেম্বরেই ভিত্তিপ্রস্তর, সামনে একনেকের পরীক্ষা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকের সভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রাথমিক লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। কিন্তু এর আগে প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, ব্যয় ও নকশা চূড়ান্তকরণ এবং একনেকের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে নির্ধারণের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ওই সময়সীমা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এ কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ঘোষিত সময়সীমা নয়, অনুমোদনের প্রকৃত অবস্থা এবং নির্মাণ শুরুর পূর্বশর্তগুলো কত দ্রুত পূরণ হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিন বছরে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন সচিবালয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন কমপ্লেক্সের সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থানান্তর করতে আরও সময় লাগতে পারে।

নতুন সচিবালয় নির্মাণ শুধু ভবন তৈরির প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, মন্ত্রণালয়গুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত এবং নাগরিকদের সরকারি সেবা পাওয়ার বিষয়ও যুক্ত। ফলে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি এসব বিষয় কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা বাস্তবায়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে প্রথম ধাপে কোন কোন মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হবে, স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী এবং নতুন কমপ্লেক্সে কী পরিমাণ প্রশাসনিক সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

পুরান সচিবালয়ে নিম্ন আদালত: দ্বিতীয় পরিকল্পনার বাস্তবতা কী?

নতুন সচিবালয় নির্মাণের সঙ্গে বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও যুক্ত রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক ও বিচারিক অবকাঠামোর ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বর্তমান সচিবালয় খালি করার সময়সূচি, আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের ওপর।

নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও পুরান সচিবালয়ে আদালত স্থানান্তর—দুটি পরিকল্পনা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পৃথক প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে। একটি প্রকল্পের অগ্রগতি অন্যটির সময়সূচিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা সামনে আসা জরুরি।

বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই হবে অনুমোদন ও সময়সূচিতে

নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগে প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়েছে—ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে, ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ধারণ করবে কয়েকটি বিষয়: চূড়ান্ত ব্যয় অনুমোদন, একনেকের সিদ্ধান্ত, নকশা চূড়ান্তকরণ, অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু করা।

৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পে সময়সীমা ও ব্যয়ের হিসাব কতটা বাস্তবসম্মত, নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কীভাবে অগ্রগতি যাচাই করা হবে এবং প্রথম ধাপে মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য কীভাবে পূরণ করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকল্পের চূড়ান্ত নথি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা। এখন দেখার বিষয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রাথমিক প্রস্তুতি কত দ্রুত চূড়ান্ত অনুমোদনে পৌঁছায় এবং সেই অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে কি না।