ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার ঝালকাঠিতে কমছে না ডেঙ্গুর দাপট, হাসপাতালে ৪২ রোগী; মৃত্যু ১০ চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট ভাইভা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, ৪ রিটের প্রার্থীদের নেওয়া হবে ভাইভা ৩.৪ শতাংশে আটকে অর্থনীতি, বাড়ছে দারিদ্র্য-আয়বৈষম্য: বিশ্বব্যাংক সিলেটে এবার ৬৩৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, বেড়েছে আয়োজন এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা লটারিতে বদলি হলেন ১৩১ সাবরেজিস্ট্রার, ঢাকার ১৮ পদে বাছাই শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি, শাস্তির মুখে ৮ হাজার শিক্ষক

৩.৪ শতাংশে আটকে অর্থনীতি, বাড়ছে দারিদ্র্য-আয়বৈষম্য: বিশ্বব্যাংক

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে ধাক্কা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে।

একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় দেশে বেড়েছে দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণে দেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আগামী দিন নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে স্বস্তি নেই

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। অথচ গত এক দশকে দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। পরের দুই অর্থবছরে তা কমে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ২ দশমিক ২ শতাংশে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন।

কমেছে বিনিয়োগ ও রপ্তানি

অর্থনীতির গতি কমার পেছনে মূলধনি বিনিয়োগের সংকোচনকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এডিপি বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক ধীরগতি, বড় অবকাঠামো প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতিকেও উন্নয়ন ব্যয় কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে হয়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। ইসলামি ব্যাংকগুলোতে এই হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) নেমে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। অথচ আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মান ১০ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছরের জুনে ব্যক্তি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপরীতে সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কারণে বেসরকারি খাত ঋণপ্রাপ্তিতে চাপে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে।

দারিদ্র্য বেড়ে ২২.৫ শতাংশ

অর্থনৈতিক স্থবিরতার পাশাপাশি দেশে বাড়ছে দারিদ্র্যও। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, টানা চতুর্থ বছরের মতো জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

সংস্থাটির মডেল অনুযায়ী, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে নতুন প্রায় ২১ লাখ মানুষ।

গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যায় জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি। আগস্টে কম আয়ের শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি ঋণাত্মক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পে ধাক্কা

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদনেও। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ২ শতাংশে।

গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন কমেছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ। করোনা মহামারির পর এই প্রথম শিল্প খাতে সংকোচনের ঘটনা ঘটেছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে, কর্মঘণ্টা কমিয়েছে কিংবা কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে কাজ হারিয়ে অনেক নারী শ্রমবাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ

অর্থনীতির নানা চাপের মধ্যেও প্রবাসী আয়ে রয়েছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তবে এফডিআইয়ের চিত্র বিপরীত। নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ।

সংকট কাটাতে তিন খাতে সংস্কারের তাগিদ

অর্থনীতির বর্তমান চাপ কাটিয়ে উঠতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ব্যাংক খাত: দ্রুত সম্পদের মান পর্যালোচনা শেষ করে দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করা, মালিকদের লোকসানের দায় বহন নিশ্চিত করা এবং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রক ছাড় প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জ্বালানি খাত: দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেনায় স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজস্ব খাত: করনীতি ও কর প্রশাসন আলাদা করা, কর ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঢালাও করছাড় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৩.৪ শতাংশে আটকে অর্থনীতি, বাড়ছে দারিদ্র্য-আয়বৈষম্য: বিশ্বব্যাংক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে ধাক্কা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে।

একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় দেশে বেড়েছে দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণে দেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আগামী দিন নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে স্বস্তি নেই

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। অথচ গত এক দশকে দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। পরের দুই অর্থবছরে তা কমে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ২ দশমিক ২ শতাংশে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন।

কমেছে বিনিয়োগ ও রপ্তানি

অর্থনীতির গতি কমার পেছনে মূলধনি বিনিয়োগের সংকোচনকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এডিপি বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক ধীরগতি, বড় অবকাঠামো প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতিকেও উন্নয়ন ব্যয় কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে হয়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। ইসলামি ব্যাংকগুলোতে এই হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) নেমে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। অথচ আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মান ১০ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছরের জুনে ব্যক্তি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপরীতে সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কারণে বেসরকারি খাত ঋণপ্রাপ্তিতে চাপে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে।

দারিদ্র্য বেড়ে ২২.৫ শতাংশ

অর্থনৈতিক স্থবিরতার পাশাপাশি দেশে বাড়ছে দারিদ্র্যও। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, টানা চতুর্থ বছরের মতো জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

সংস্থাটির মডেল অনুযায়ী, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে নতুন প্রায় ২১ লাখ মানুষ।

গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যায় জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি। আগস্টে কম আয়ের শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি ঋণাত্মক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পে ধাক্কা

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদনেও। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ২ শতাংশে।

গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন কমেছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ। করোনা মহামারির পর এই প্রথম শিল্প খাতে সংকোচনের ঘটনা ঘটেছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে, কর্মঘণ্টা কমিয়েছে কিংবা কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে কাজ হারিয়ে অনেক নারী শ্রমবাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ

অর্থনীতির নানা চাপের মধ্যেও প্রবাসী আয়ে রয়েছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তবে এফডিআইয়ের চিত্র বিপরীত। নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ।

সংকট কাটাতে তিন খাতে সংস্কারের তাগিদ

অর্থনীতির বর্তমান চাপ কাটিয়ে উঠতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ব্যাংক খাত: দ্রুত সম্পদের মান পর্যালোচনা শেষ করে দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করা, মালিকদের লোকসানের দায় বহন নিশ্চিত করা এবং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রক ছাড় প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জ্বালানি খাত: দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেনায় স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজস্ব খাত: করনীতি ও কর প্রশাসন আলাদা করা, কর ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঢালাও করছাড় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।