ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি, হাসপাতাল পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাম-উপসর্গে আক্রান্ত ১,৮৫৫ ব্রিকসে মোদির ১০ দফা রোডম্যাপ, গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেলেন ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন জয়পুরহাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র-রামদা উদ্ধার, পালাল ডাকাত দল ২০২৮-এ নতুন কারিকুলাম, বদলাবে কি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র? নারীদের নির্বিঘ্ন চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের বড় প্রাপ্তি: রিজভী দুমকিতে শুরু ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাদক ও কিশোর গ্যাং ঠেকাতে মাঠে নামছে কাবাডি, ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ‘তরুণরা চাইলে দেশ বদলে দিতে পারে, ২০২৪ সালেই তা দেখিয়েছে’

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাম-উপসর্গে আক্রান্ত ১,৮৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার বদলে এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫৫ জন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও একই উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ একের পর এক মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

নতুন আক্রান্তদের হিসাবও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে। ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের।

শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, হাসপাতালগুলোতেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা বড় প্রশ্ন সামনে আনছে—হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো কি যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে? বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর তথ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার দাবিকে কঠিন করে তুলছে।

বিশেষ করে ১৫ মার্চ থেকে কয়েক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা যখন ১ লাখ ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুও হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখন সংক্রমণের উৎস, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং চিকিৎসা ও প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরলেও এখনো বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে হামের সংক্রমণ শুধু জনস্বাস্থ্যের সংকটই নয়, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনে মূল কারণগুলো কী এবং সংক্রমণের চেইন ভাঙতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাম-উপসর্গে আক্রান্ত ১,৮৫৫

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার বদলে এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫৫ জন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও একই উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ একের পর এক মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

নতুন আক্রান্তদের হিসাবও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে। ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের।

শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, হাসপাতালগুলোতেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা বড় প্রশ্ন সামনে আনছে—হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো কি যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে? বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর তথ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার দাবিকে কঠিন করে তুলছে।

বিশেষ করে ১৫ মার্চ থেকে কয়েক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা যখন ১ লাখ ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুও হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখন সংক্রমণের উৎস, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং চিকিৎসা ও প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরলেও এখনো বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে হামের সংক্রমণ শুধু জনস্বাস্থ্যের সংকটই নয়, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনে মূল কারণগুলো কী এবং সংক্রমণের চেইন ভাঙতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।