আলোচনাতেই সংঘাতের সমাধান, পুতিনকে মোদীর বার্তা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁ দিকে) এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)- ছবি: পিটিআই
দু’সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথেই জোর দিয়েছেন মোদী। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও পুতিনকে জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন মোদী ও পুতিন। বিশেষ গুরুত্ব পায় পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাত। এসব সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও কথা বলেন তাঁরা।
মোদীর বার্তা ছিল স্পষ্ট—আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উদ্যোগে ভারত পাশে থাকবে বলেও তিনি পুতিনকে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকের পরও ‘গাড়ি কূটনীতি’
দুই নেতার বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আরেকটি বিষয়ও নজর কেড়েছে। বৈঠক শেষে ফের একই গাড়িতে চড়ে দেখা যায় মোদী ও পুতিনকে। এর মধ্য দিয়ে দিল্লিতেও মোদীর বহুল আলোচিত ‘গাড়ি কূটনীতি’র আরেকটি নজির দেখা গেল।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিয়ে পুতিনের লিমুজিনে চড়েছিলেন মোদী। দুই নেতার ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসেবে সেই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল।
শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে মোদী তাঁকে তামিল দার্শনিক তিরুভল্লুভারের নীতিশাস্ত্রের গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর ইংরেজি অনুবাদ উপহার দেন। অন্যদিকে, পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বাড়তি গুরুত্ব
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে মার্চে ভারতকে এসইউ-৫৭ই যুদ্ধবিমানের যৌথ উৎপাদন এবং পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। ফলে শুক্রবারের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নতুন করে যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব সেই সহযোগিতাকে আরও গভীর করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বাণিজ্য ও জ্বালানিও আলোচনায়
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্য ও জ্বালানি নিয়েও কথা হয়েছে দুই নেতার। রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বানি কেনা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে মোদী-পুতিনের দিল্লি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কূটনৈতিক মহল। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ধরে রাখা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ সামলে বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া—ভারতের জন্য এই ভারসাম্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দু’সপ্তাহের মধ্যে দুই দফা বৈঠক এবং প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতার এমন বার্তার মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লি-মস্কোর সম্পর্ক যে এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, শুক্রবারের সাক্ষাতে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।
























