ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি বছরেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী আলোচনাতেই সংঘাতের সমাধান, পুতিনকে মোদীর বার্তা চাকরির ফাঁদ থেকে হ্যাকিং—খুলশীর আটতলায় ৬৩ বিদেশির ‘সাইবার ঘাঁটি’ প্রেমের বিয়ে অস্বীকার, নবজাতক ফেলে পালানোর চেষ্টা আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী বর্ষার পানিতে গোসল করতে নেমে নিথর তিন শিশু, মুহূর্তেই থেমে গেল তিন পরিবারের হাসি হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, একদিনে আক্রান্ত ও উপসর্গ ১,১১১ জনের ফুডপান্ডা কার্যালয়ের সামনে রাইডারদের বিক্ষোভ, পারিশ্রমিক ও নীতিমালা সংস্কারের দাবি মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু ব্রিকস বৈঠকে অতিথিদের পাতে কী থাকছে? মেনুতে বাংলার ‘প্রিয়’ কুচো নিমকিও

বর্ষার পানিতে গোসল করতে নেমে নিথর তিন শিশু, মুহূর্তেই থেমে গেল তিন পরিবারের হাসি

পাবনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার চরতারাপুরের দাশপাড়া গ্রামে শুক্রবার দুপুরেও অন্য দিনের মতোই ছিল শিশুদের কোলাহল। বর্ষার পানিতে মাঠ ভরে উঠেছিল। সেই পানিতে গোসল করতে নেমেছিল কয়েক শিশু। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আনন্দের সেই মুহূর্ত বদলে যায় ভয়াবহ আতঙ্কে। একে একে পানিতে তলিয়ে যায় তিন শিশু।

দুপুর ২টার দিকে নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা। পানিতে ডুবে মারা যায় সুমি খাতুন (৭), খালিদ হোসেন (৮) ও আফিয়া খাতুন (৬)। তিনজনই স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী।

নিহত সুমি ওই গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে। আর খালিদ ও আফিয়া একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (আশরাফের) সন্তান। তিন শিশুই ছিল পাশাপাশি বেড়ে ওঠা, খেলাধুলা আর ছোট ছোট আনন্দে মেতে থাকা বয়সের। কিন্তু বর্ষার সেই পানিই কেড়ে নিল তাদের প্রাণ।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। একপর্যায়ে তাদের একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে ছুটে যায় অন্য দুই শিশু। কিন্তু উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তারাও গভীর পানিতে ডুবে যায়।

মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার। স্থানীয়রা ছুটে এসে তিন শিশুকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত তাদের নিয়ে রওনা দেন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে। স্বজনদের চোখেমুখে তখন একটাই আশা—হয়তো বেঁচে আছে তাদের সন্তানরা, হয়তো শেষ মুহূর্তে ফিরে আসবে সেই চেনা মুখগুলো।

কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় তিন শিশুর জীবন।

যে বাড়িগুলোতে প্রতিদিন শিশুদের হাসি-খেলায় মুখর থাকত উঠান, সেখানেই নেমে এসেছে শোকের ভার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দাশপাড়া গ্রামের পরিবেশ। সন্তান হারানোর এই শোক যেন কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

মাত্র ছয়, সাত আর আট বছরের তিনটি প্রাণ। স্কুলে যাওয়ার, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার, বড় হয়ে কিছু হওয়ার কত স্বপ্নই না ছিল তাদের। বর্ষার পানিতে গোসলের ছোট্ট আনন্দ যে শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়াবে, তা কে-ই বা ভেবেছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বর্ষার পানিতে গোসল করতে নেমে নিথর তিন শিশু, মুহূর্তেই থেমে গেল তিন পরিবারের হাসি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার চরতারাপুরের দাশপাড়া গ্রামে শুক্রবার দুপুরেও অন্য দিনের মতোই ছিল শিশুদের কোলাহল। বর্ষার পানিতে মাঠ ভরে উঠেছিল। সেই পানিতে গোসল করতে নেমেছিল কয়েক শিশু। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আনন্দের সেই মুহূর্ত বদলে যায় ভয়াবহ আতঙ্কে। একে একে পানিতে তলিয়ে যায় তিন শিশু।

দুপুর ২টার দিকে নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা। পানিতে ডুবে মারা যায় সুমি খাতুন (৭), খালিদ হোসেন (৮) ও আফিয়া খাতুন (৬)। তিনজনই স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী।

নিহত সুমি ওই গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে। আর খালিদ ও আফিয়া একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (আশরাফের) সন্তান। তিন শিশুই ছিল পাশাপাশি বেড়ে ওঠা, খেলাধুলা আর ছোট ছোট আনন্দে মেতে থাকা বয়সের। কিন্তু বর্ষার সেই পানিই কেড়ে নিল তাদের প্রাণ।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। একপর্যায়ে তাদের একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে ছুটে যায় অন্য দুই শিশু। কিন্তু উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তারাও গভীর পানিতে ডুবে যায়।

মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার। স্থানীয়রা ছুটে এসে তিন শিশুকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত তাদের নিয়ে রওনা দেন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে। স্বজনদের চোখেমুখে তখন একটাই আশা—হয়তো বেঁচে আছে তাদের সন্তানরা, হয়তো শেষ মুহূর্তে ফিরে আসবে সেই চেনা মুখগুলো।

কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় তিন শিশুর জীবন।

যে বাড়িগুলোতে প্রতিদিন শিশুদের হাসি-খেলায় মুখর থাকত উঠান, সেখানেই নেমে এসেছে শোকের ভার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দাশপাড়া গ্রামের পরিবেশ। সন্তান হারানোর এই শোক যেন কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

মাত্র ছয়, সাত আর আট বছরের তিনটি প্রাণ। স্কুলে যাওয়ার, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার, বড় হয়ে কিছু হওয়ার কত স্বপ্নই না ছিল তাদের। বর্ষার পানিতে গোসলের ছোট্ট আনন্দ যে শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়াবে, তা কে-ই বা ভেবেছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।