যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি বৈধ!

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনের অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিপুল সামরিক ব্যয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন হচ্ছে অস্ত্র ও ড্রোন কেনার জন্য বাড়তি অর্থ। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে।
বছরে আড়াই কোটি ডলার রাজস্বের আশা
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে বৈধতার আওতায় আনা হলে সরকার বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পেতে পারে।
তার হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব। দীর্ঘ যুদ্ধের মধ্যে সামরিক সরঞ্জামের ব্যয় মেটাতে নতুন রাজস্বের উৎস খোঁজার বিষয়টি তাই আলোচনায় এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনার জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন। গত জুলাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিলটি পার্লামেন্টে প্রথম দফার ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এখন দ্বিতীয় দফায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ
ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি আইনত নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার হয়ে আসছে।
আইনি স্বীকৃতি না থাকায় এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরকার নিয়মিত কর আদায় করতে পারছে না। একই সঙ্গে কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও আনা হচ্ছে।
OnlyFans থেকে বিপুল আয়
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘OnlyFans’ প্ল্যাটফর্ম থেকে মোট ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন।
অর্থাৎ খাতটি থেকে বিপুল অর্থের প্রবাহ থাকলেও এর একটি বড় অংশ কর কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় ঘোষণা ও কর আদায় নিয়েও দেশটির আয়কর কর্তৃপক্ষকে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
পিটিশনের পর নতুন করে আলোচনা
এই পরিস্থিতিতে পর্ন কনটেন্ট নির্মাতা সভিতলানা দ্বর্নিকোভা পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছে একটি পিটিশন জমা দেন। পিটিশনটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ইউক্রেনের অনেক মানুষ এতে সমর্থন জানান।
এরপরই বিষয়টি পার্লামেন্টে আরও জোরালোভাবে আলোচনায় আসে। বর্তমানে প্রস্তাবটি দ্বিতীয় দফার ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়ে আইনে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে পার্লামেন্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
























