ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনার দাফনও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না: সারজিস আলম আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দুমকিতে ৫৩তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১০ টাকায় ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে পার্সেল, পাঠাবেন যেভাবে বিচ্ছেদের ৩ বছর পর ‘৩ নম্বর জন’, ফের চর্চায় পরীমণি যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি বৈধ! পৈতৃক জমির বিরোধে তিন ভাইয়ের হামলা, ৭ দিন পর বোনের মৃত্যু চলতি সপ্তাহেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকের বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এমনিতেই বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক বলেই তিনি মনে করেন।

তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তাঁর অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জাপানের বিশেষ দূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন তিনি। মিয়ানমারে জাতীয় সমঝোতা বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর ভূমিকার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীও সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন সাসাকাওয়া।

এ ছাড়া জাপানের বিনিয়োগ পেতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি বিশেষ দূতকে অবহিত করেন।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকের বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এমনিতেই বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক বলেই তিনি মনে করেন।

তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তাঁর অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জাপানের বিশেষ দূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন তিনি। মিয়ানমারে জাতীয় সমঝোতা বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর ভূমিকার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীও সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন সাসাকাওয়া।

এ ছাড়া জাপানের বিনিয়োগ পেতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি বিশেষ দূতকে অবহিত করেন।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।