সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ সন্তান-সন্ততি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
দান করলেও ভোগাধিকার থাকবে দাতার
বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ সন্তান বা নাতি-নাতনিকে এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলেও দাতার ভোগাধিকার বহাল থাকবে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তর হবে।
সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দান হবে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
তবে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা, অছিয়ত বা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে নতুন এই বিধানের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বিরোধী দলের আপত্তি
বিলটির বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা এটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন।
তাদের বক্তব্য, বিষয়টি ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিধান বিদ্যমান ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কি কোরআনের মূল নীতিকে রাখব নাকি বাদ দেব? আমাদের কী বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আছে?’
বিরোধী দল বিলটির ওপর ভোটে অংশ নেয়নি। বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
‘হেবা বা অছিয়তে প্রভাব পড়বে না’
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইনের অধীনে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করা হলে তা কোনোভাবেই হেবা, অছিয়ত বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে না।
অসহায় ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আইনটি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটির প্রস্তাবে ভোট দেন। কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।






















