ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিম-আটা-চিনির দামে ঊর্ধ্বগতি, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে দেখা দিয়েছে মিশ্র চিত্র। ডিম, আটা, ময়দা ও চিনির দাম বাড়তি থাকলেও খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নতুন দরের তেল বাজারে না এলেও পুরোনো বোতল নতুন দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাছ-মাংসের দাম এখনো চড়া থাকায় সামগ্রিকভাবে ক্রেতাদের ওপর চাপ কমেনি।

শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ডজন ডিম ১৫০ টাকা

বাজারে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ডিম। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। এর আগে একই পরিমাণ ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।

জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আড়তদাররা ডিমের দাম কমাচ্ছেন না। ফলে খুচরা পর্যায়েও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাড়ছে আটার দাম

প্যাকেটজাত দুই কেজি আটার দাম বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

খোলা আটার দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

চিনির বাজারেও একই প্রবণতা। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এর দাম ছিল প্রায় ১১০ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

নতুন দরের তেল এখনো আসেনি

গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে এখনো নতুন দরের তেল সরবরাহ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এর মধ্যেই কিছু দোকানে পুরোনো বোতলের গায়ে থাকা আগের মূল্য মুছে বা পরিবর্তন করে নতুন দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজিতে ফিরেছে স্বস্তি

সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বর্তমানে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কচুর লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও আলুর দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দামেও স্বস্তি নেই

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাংসের বাজারে এখনো চড়া দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফলে সবজির দামে কিছুটা কমতি এলেও ডিম, মাংস, আটা ও চিনিসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে এখনো চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিম-আটা-চিনির দামে ঊর্ধ্বগতি, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে দেখা দিয়েছে মিশ্র চিত্র। ডিম, আটা, ময়দা ও চিনির দাম বাড়তি থাকলেও খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নতুন দরের তেল বাজারে না এলেও পুরোনো বোতল নতুন দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাছ-মাংসের দাম এখনো চড়া থাকায় সামগ্রিকভাবে ক্রেতাদের ওপর চাপ কমেনি।

শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ডজন ডিম ১৫০ টাকা

বাজারে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ডিম। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। এর আগে একই পরিমাণ ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।

জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আড়তদাররা ডিমের দাম কমাচ্ছেন না। ফলে খুচরা পর্যায়েও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাড়ছে আটার দাম

প্যাকেটজাত দুই কেজি আটার দাম বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

খোলা আটার দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

চিনির বাজারেও একই প্রবণতা। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এর দাম ছিল প্রায় ১১০ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

নতুন দরের তেল এখনো আসেনি

গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে এখনো নতুন দরের তেল সরবরাহ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এর মধ্যেই কিছু দোকানে পুরোনো বোতলের গায়ে থাকা আগের মূল্য মুছে বা পরিবর্তন করে নতুন দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজিতে ফিরেছে স্বস্তি

সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বর্তমানে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কচুর লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও আলুর দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দামেও স্বস্তি নেই

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাংসের বাজারে এখনো চড়া দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফলে সবজির দামে কিছুটা কমতি এলেও ডিম, মাংস, আটা ও চিনিসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে এখনো চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।