শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব আদিবাসী দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি, বৃহত্তর সিলেটের আয়োজনে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলে একটি বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য ও বিশাল র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অডিটোরিয়াম চত্বরে এসে শেষ হয়। বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিতে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির নানা পসরা ফুটিয়ে তোলা হয়।
র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা
অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সভাপতি পংকজ এ কন্দ।এসময় বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য নেরলা তেনসং, বিজয় হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও সভাপতি-বালিশিরা ভ্যালী কার্য:পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি হিরণময় সিংহ, খাসি জনগোষ্ঠী থেকে এলভিস পতাম আরও তের জাতিগোষ্ঠী আদিবাসী নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দাবী নিয়ে বক্তব্যে প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের নিজস্ব জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞান আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনমান সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সঠিক মূল্যায়নের করতে হবে।সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রনালয় গঠন করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে। আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। পূর্বপুরুষের ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার কার্যকরভাবে রক্ষা করতে হবে। মৌলভীবাজার জেলার সব ভূমি বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এই আলোচনা সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মি: জনক দেববর্মা।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীত প্রদর্শিত হয়।এ অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, বাংলাদেশ কন্দ সমাজ, বাংলাদেশ মুন্ডা কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ কুর্মী সমাজ, বাংলাদেশ গঞ্জু সমাজসেবক ফোরাম, সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, কাপেং ফাউন্ডেশন ও শ্রীচুকসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠনসমূহ।
























