মাকে খুঁজতে এসে মিলল পলিথিনে মোড়ানো মরদেহ, মেলেনি মাথা ও পা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। মাকে দেখতে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন মরিয়ম আক্তার। কিন্তু ঘরে ঢুকেই মাকে না পেয়ে অস্বস্তি তৈরি হয় তাঁর মনে। বারবার খোঁজ করেও কোনো সন্ধান মিলছিল না ফরিদা ইয়াসমিনের (৫০)।
সারাদিনের উৎকণ্ঠার পর সন্ধ্যায় বাড়ির পেছনে মিলল এমন এক দৃশ্য, যা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। পলিথিনে মোড়ানো একের পর এক প্যাকেট। খুলতেই বেরিয়ে আসে ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করেছে। তবে তাঁর মাথা ও দুই পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ছোট আলমপুর এলাকায় বসবাস করতেন ফরিদা ইয়াসমিন। স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে একাই থাকতেন ফরিদা। নিজের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া দিয়েছিলেন লাইলী আক্তার নামে এক নারীকে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরিচিতজনদের কাছে জানতে চান, কেউ তাঁর মাকে দেখেছেন কি না। কিন্তু কোথাও মিলছিল না কোনো উত্তর।
এরপর সন্ধ্যায় ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করলে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের তথ্য।
একজন মা, একজন স্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী—ফরিদা ইয়াসমিনের এমন পরিণতি যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকাকে। যে বাড়িতে এত বছর ধরে তাঁর সংসারের স্মৃতি, সেই বাড়ির পেছনেই পড়ে ছিল তাঁর খণ্ডিত মরদেহ।
ঘটনার পর স্থানীয়রা লাইলী আক্তারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিউল, সোহেল, ইমন ও লাইলীর স্বামী আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার কথাও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো মাথা ও দুই পা পাওয়া যায়নি। আটক লাইলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম বলেছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এখন পরিবারের সামনে একটাই প্রশ্ন—কীভাবে, কেন এমন নির্মমতার শিকার হলেন ফরিদা ইয়াসমিন? আর তাঁর মরদেহের বাকি অংশ কোথায়? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।




















