ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বসুন্ধরায় অ্যামেচার মার্শাল আর্টের জমজমাট আসর ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব বাধা পেরিয়ে বাস্তবতার নিরিখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নীরবে এতিম শিশুদের পাশে সায়েম সোবহান আনভীর সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে সক্রিয় চক্র: প্রধানমন্ত্রী তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি, নিশানায় ছিলেন রোনাল্ডোও

‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলে এর দায় ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে এই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেয় এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করে, তাহলে দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী। ভারত যদি ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে, তাহলে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি বলে থাকে যে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না, তাহলে বাংলাদেশ সেই বক্তব্য গ্রহণ করে। তবে একই সঙ্গে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতের মাটিতে বসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা একজন রাজনৈতিক নেতাকে ভারত কীভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির মতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির নেতারা দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছেন, অন্যদিকে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ভারতকে বাংলাদেশ যা দিয়েছে, তা দেশটি চিরদিন মনে রাখবে। শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে সেই সম্পর্কের ‘পারস্পরিক প্রতিদান’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

‘জুলাই অভ্যুত্থান ৩৬ দিনের আন্দোলন ছিল না’

আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখলে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে। ৫ আগস্টের অর্জন ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের ফল।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না যে নিজে থেকেই গাছ থেকে পড়ে গেছে।’ দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে। তাই শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভিত্তিতে ১৭ বছরের আন্দোলনের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করা রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্বতার পরিচয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনা। এটি প্রচলিত অর্থে কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিল না; বরং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলে এর দায় ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে এই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেয় এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করে, তাহলে দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী। ভারত যদি ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে, তাহলে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি বলে থাকে যে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না, তাহলে বাংলাদেশ সেই বক্তব্য গ্রহণ করে। তবে একই সঙ্গে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতের মাটিতে বসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা একজন রাজনৈতিক নেতাকে ভারত কীভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির মতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির নেতারা দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছেন, অন্যদিকে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ভারতকে বাংলাদেশ যা দিয়েছে, তা দেশটি চিরদিন মনে রাখবে। শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে সেই সম্পর্কের ‘পারস্পরিক প্রতিদান’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

‘জুলাই অভ্যুত্থান ৩৬ দিনের আন্দোলন ছিল না’

আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখলে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে। ৫ আগস্টের অর্জন ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের ফল।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না যে নিজে থেকেই গাছ থেকে পড়ে গেছে।’ দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে। তাই শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভিত্তিতে ১৭ বছরের আন্দোলনের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করা রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্বতার পরিচয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনা। এটি প্রচলিত অর্থে কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিল না; বরং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল।