কম বয়সেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি? নারীদের ৩ লক্ষণে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা অনেকের জীবনেই বয়সের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, চাকরি কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে মাতৃত্বের সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে বয়স বাড়ার পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যগত কারণেও সন্তানধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি তুলনামূলক কম বয়সেও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অনিয়মিত ঋতুচক্র বা প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন সমস্যার কারণে উর্বরতা কমে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দেখা দেওয়া কিছু পরিবর্তন শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক সমস্যাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে বন্ধ্যাত্ব হয়েছে, এমন নয়। কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১. ঋতুচক্রে অস্বাভাবিকতা
প্রতি মাসে নিয়মিত সময়ে ঋতুস্রাব না হওয়া, খুব ঘন ঘন ঋতুস্রাব হওয়া কিংবা কয়েক মাস বন্ধ থাকা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, অসহ্য পেটব্যথা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে তলপেট ও কোমরে ব্যথাও সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। এসব উপসর্গের পেছনে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, জরায়ুর ফাইব্রয়েড কিংবা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
বিশেষ করে ঋতুস্রাবের আগে-পরে তীব্র তলপেট বা কোমরব্যথা, মলত্যাগ কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা এবং অতিরিক্ত রক্তপাত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ
শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। মুখে বা শরীরের অন্যান্য অংশে অতিরিক্ত লোম গজানো, ব্রণ বেড়ে যাওয়া, মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি কিংবা ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
এসব লক্ষণ অনেক সময় পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এই সমস্যায় ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হওয়ায় সন্তানধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখেই PCOS হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়।
৩. দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হওয়া
নিয়মিত ও অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় গর্ভধারণ না হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণভাবে ৩৫ বছরের কম বয়সী নারীর ক্ষেত্রে এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে এবং ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে ছয় মাস চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে ঋতুচক্র অত্যন্ত অনিয়মিত হওয়া, তীব্র মাসিকের ব্যথা, আগে থেকেই প্রজনন অঙ্গের কোনো সমস্যা থাকা বা অন্য কোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ থাকলে এতদিন অপেক্ষা না করেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো।
বন্ধ্যাত্ব মানেই সন্তানধারণ অসম্ভব নয়
বন্ধ্যাত্বের পেছনে শুধু নারীদের কারণ থাকে না। পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণগত সমস্যা, হরমোনজনিত কারণ কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও সন্তানধারণে বাধা তৈরি করতে পারে। তাই সন্তানধারণে সমস্যা হলে শুধু নারীকে দায়ী করা ঠিক নয়; প্রয়োজন হলে দুজনেরই চিকিৎসা-পরামর্শ ও পরীক্ষা করা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঋতুচক্রের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করা। দ্রুত কারণ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তানধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।




















