ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেপাটাইটিসের লক্ষণ হতে পারে যেসব সাধারণ উপসর্গ, অবহেলা নয় সতর্কতা জরুরি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্ষাকালে দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লিভারের এই প্রদাহজনিত রোগটি অনেক সময় শুরুতে খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ দিয়ে প্রকাশ পায়, যা অনেকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি লিভারের গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিসের মধ্যে এ, বি, সি, ডি ও ই—এই পাঁচ ধরনের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, শরীরের তরল, ব্যবহৃত সুচ বা ধারালো যন্ত্রের মাধ্যমে।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

অস্বাভাবিক ক্লান্তি:
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে, ফলে দুর্বলতা ও অবসাদ দেখা দেয়।

ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব:
হঠাৎ করে খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা কয়েকদিন ধরে বমি হওয়া হেপাটাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

পেটের ডান পাশে ব্যথা:
পেটের উপরের ডান দিকে ব্যথা, চাপ অনুভব করা বা অস্বস্তি এবং এর সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া:
পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা লালচে থাকে, তবে এটি লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

জন্ডিস:
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, যা হেপাটাইটিস বি-সহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ।

কী করবেন?

  • উপসর্গগুলো কয়েকদিনের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস শনাক্ত করা যায়।
  • হেপাটাইটিস বি বা সি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ জরুরি।
  • নিরাপদ পানি পান করুন, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী (ক্ষুর, নখ কাটার, সুচ ইত্যাদি) অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করুন।

সতর্কতা: এই তথ্য সচেতনতামূলক। উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হেপাটাইটিসের লক্ষণ হতে পারে যেসব সাধারণ উপসর্গ, অবহেলা নয় সতর্কতা জরুরি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বর্ষাকালে দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লিভারের এই প্রদাহজনিত রোগটি অনেক সময় শুরুতে খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ দিয়ে প্রকাশ পায়, যা অনেকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি লিভারের গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিসের মধ্যে এ, বি, সি, ডি ও ই—এই পাঁচ ধরনের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, শরীরের তরল, ব্যবহৃত সুচ বা ধারালো যন্ত্রের মাধ্যমে।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

অস্বাভাবিক ক্লান্তি:
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে, ফলে দুর্বলতা ও অবসাদ দেখা দেয়।

ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব:
হঠাৎ করে খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা কয়েকদিন ধরে বমি হওয়া হেপাটাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

পেটের ডান পাশে ব্যথা:
পেটের উপরের ডান দিকে ব্যথা, চাপ অনুভব করা বা অস্বস্তি এবং এর সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া:
পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা লালচে থাকে, তবে এটি লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

জন্ডিস:
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, যা হেপাটাইটিস বি-সহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ।

কী করবেন?

  • উপসর্গগুলো কয়েকদিনের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস শনাক্ত করা যায়।
  • হেপাটাইটিস বি বা সি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ জরুরি।
  • নিরাপদ পানি পান করুন, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী (ক্ষুর, নখ কাটার, সুচ ইত্যাদি) অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করুন।

সতর্কতা: এই তথ্য সচেতনতামূলক। উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।