ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোদির টুইটের পরই সুর বদল সালমানের, শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান দুই দিন আগেই দেশে ফিরছেন স্পিকার, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে বাড়ছে আলোচনা রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন, জানা গেল সম্ভাব্য সময় সরালেই হবে না, বিচারের আওতায় আনতে হবে রাষ্ট্রপতি অপসারণের সিদ্ধান্ত ‘সুসংবাদ’: আসিফ মাহমুদ সরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন! নেপথ্যে হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ? চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই বাংলাদেশ হবে বৈশ্বিক উৎপাদন হাব: প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি নির্ধারণে প্রয়োজন যথাযথ কর্তৃপক্ষ: তথ্যমন্ত্রী এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি জামায়াতের

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন, জানা গেল সম্ভাব্য সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবশেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলা গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আগামী শনিবার অথবা রোববার পদত্যাগ করতে পারেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন।

সূত্রের খবর, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী এক সচিবের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে। এর আগে বিএনপির প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় ছিল।

তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও আলোচনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক নাম আলোচনায় আসে, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ তাঁর কার্যকালের মধ্যেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরে ৮ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি তোলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়েছিল। সে সময় সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কায় বিএনপি রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবির সঙ্গে একমত হয়নি।

পরে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই তাঁকে শপথ পড়ান। পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও তিনি বক্তব্য দেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।

এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের। রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগ করলে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং দেশের রাজনৈতিক সমীকরণেও তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন, জানা গেল সম্ভাব্য সময়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

অবশেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলা গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আগামী শনিবার অথবা রোববার পদত্যাগ করতে পারেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন।

সূত্রের খবর, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী এক সচিবের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে। এর আগে বিএনপির প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় ছিল।

তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও আলোচনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক নাম আলোচনায় আসে, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ তাঁর কার্যকালের মধ্যেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরে ৮ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি তোলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়েছিল। সে সময় সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কায় বিএনপি রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবির সঙ্গে একমত হয়নি।

পরে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই তাঁকে শপথ পড়ান। পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও তিনি বক্তব্য দেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।

এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের। রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগ করলে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং দেশের রাজনৈতিক সমীকরণেও তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।