ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যমুনার ভাঙনে বন্ধ সড়ক, ১৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচলে দুর্ভোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা জোরদারের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নার চেষ্টা, আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা ইমন হত্যা মামলায় বাদ পড়া ৩৯ আসামিকে ফের অন্তর্ভুক্তের নির্দেশ দুদকের মামলার আসামিরা ডিজি আব্দুর রহিমের ছত্রচ্ছায়ায় হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করবেন যেভাবে, জেনে নিন ৬ উপায় ফাইনাল শেষে মারামারি, আর্জেন্টিনার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করছে? মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে শম্ভু সীমান্তে কৃষকদের ঢল এআই ক্যামেরায় এবার সিট বেল্ট ও ফোনে কথা বললেও মামলা

যমুনার ভাঙনে বন্ধ সড়ক, ১৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচলে দুর্ভোগ

মোঃ মশিউর রহমান, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে যমুনার প্রবল স্রোতের আঘাতে মহাসড়কসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়। একপর্যায়ে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন।

বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর একইভাবে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। তারা যমুনা তীর রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “রাতভর এলাকাবাসী নিজেরাই ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না।”

আরেক বাসিন্দা হালিম তালুকদার বলেন, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কটি ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম জানান, গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকার নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইসগেটসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থায়ী সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সড়কটি আপাতত বন্ধ থাকলেও বিকল্প সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যমুনার ভাঙনে বন্ধ সড়ক, ১৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচলে দুর্ভোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে যমুনার প্রবল স্রোতের আঘাতে মহাসড়কসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়। একপর্যায়ে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন।

বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর একইভাবে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। তারা যমুনা তীর রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “রাতভর এলাকাবাসী নিজেরাই ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না।”

আরেক বাসিন্দা হালিম তালুকদার বলেন, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কটি ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম জানান, গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকার নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইসগেটসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থায়ী সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সড়কটি আপাতত বন্ধ থাকলেও বিকল্প সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।