শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জেরে সংসদে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এর আগে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক বা দুই দিন পেছানোর দাবির পরও কেন তা করা হয়নি—সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও দেশের অন্য এলাকায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে ইতিবাচক তথ্য পাওয়ার পরই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে নতুন পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।
মন্ত্রী দাবি করেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ছাড়া দেশের অন্য কোথাও দুর্যোগজনিত কারণে পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।




















