চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারা দেশে চলবে এইচএসসি পরীক্ষা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত রেখে দেশের অন্যান্য সব অঞ্চলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার বাইরে সব শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর এক মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। তারা শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিও জানান।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম জানান, উত্তরা এলাকায় বিক্ষোভের কারণে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’—এমন নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই সোমবারের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”
অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সোমবারের ভোগান্তির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”





















