ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবির নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী ঈদের ছুটিতে দুই বনে গাছ উধাও, কাটা হলো শত শত বৃক্ষ সিলেটে ডিসি সারওয়ারের আলোচিত অধ্যায়: ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ শেষ স্মৃতিবিজড়িত ১২০০ বছরের পুরনো ‘মেজর ওক’ গাছের মৃত্যু সৌদিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম জয়, ঝলক দেখালেন ইয়ামাল শিল্পগোষ্ঠীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ এমপি-পুত্র খায়রুলের বিরুদ্ধে খুলনায় ১৮ দিন ধরে খাবার খাচ্ছে না খানজাহান আলীর মাজারের কুমির চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ: এমপি-পুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার কোনো প্রভুত্ব নয়, সমবন্ধুত্বের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু সুন্দরবনে ফাঁদে আহত বাঘিনী সুস্থ, ফিরছে তার আবাসস্থলে

সিলেটে ডিসি সারওয়ারের আলোচিত অধ্যায়: ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ শেষ

সিলেট ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মো. সারওয়ার আলমের দায়িত্ব নেওয়া যেমন আলোচনার মধ্য দিয়ে হয়েছিল, তেমনি বিদায়ও হলো ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দিয়ে। সাদাপাথর রক্ষার অভিযান দিয়ে আলোচনায় আসা এই কর্মকর্তার সিলেট অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ড’ ঘিরে বিতর্কের মধ্য দিয়ে।

২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। ওই সময় সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে ব্যাপক পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা চলছিল। ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সাদাপাথরের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পাথর লুটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন তিনি।

প্রশাসনের অভিযানে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার করে সাদাপাথরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষের প্রশংসাও পান তিনি।

দায়িত্ব পালনকালে নগরীর বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সক্রিয় ছিলেন সারওয়ার আলম। ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, হকার উচ্ছেদ, বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানসহ নানা কার্যক্রমে আলোচনায় আসেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে নেওয়া প্রশাসনিক উদ্যোগই তৈরি করে বড় বিতর্ক। মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দানবাক্সের নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েন ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের আয়ের স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও মাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশ দীর্ঘদিনের রীতি-রেওয়াজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

এর মধ্যেই রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তার প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে সিলেট মহানগরীর কোর্ট পয়েন্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তাঁর প্রত্যাহারের প্রতিবাদে মানববন্ধনের খবরও পাওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিলেটে ডিসি সারওয়ারের আলোচিত অধ্যায়: ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ শেষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মো. সারওয়ার আলমের দায়িত্ব নেওয়া যেমন আলোচনার মধ্য দিয়ে হয়েছিল, তেমনি বিদায়ও হলো ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দিয়ে। সাদাপাথর রক্ষার অভিযান দিয়ে আলোচনায় আসা এই কর্মকর্তার সিলেট অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ড’ ঘিরে বিতর্কের মধ্য দিয়ে।

২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। ওই সময় সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে ব্যাপক পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা চলছিল। ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সাদাপাথরের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পাথর লুটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন তিনি।

প্রশাসনের অভিযানে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার করে সাদাপাথরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষের প্রশংসাও পান তিনি।

দায়িত্ব পালনকালে নগরীর বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সক্রিয় ছিলেন সারওয়ার আলম। ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, হকার উচ্ছেদ, বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানসহ নানা কার্যক্রমে আলোচনায় আসেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে নেওয়া প্রশাসনিক উদ্যোগই তৈরি করে বড় বিতর্ক। মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দানবাক্সের নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েন ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের আয়ের স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও মাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশ দীর্ঘদিনের রীতি-রেওয়াজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

এর মধ্যেই রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তার প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে সিলেট মহানগরীর কোর্ট পয়েন্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তাঁর প্রত্যাহারের প্রতিবাদে মানববন্ধনের খবরও পাওয়া গেছে।