ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূ রিতু হত্যায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

মো: সোহরাব হোসেন সৌরভ, রাজশাহী
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে গৃহবধূ রিতু খাতুন রিয়াকে শারীরিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে স্বামী মিজানসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই রিতু খাতুন রিয়ার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী মিজান। পারিবারিক কলহের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী মিজান পলাতক রয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

মানববন্ধন শেষে স্থানীয়রা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা এ সময় “খুনির ফাঁসি চাই”, “রিতু হত্যার বিচার চাই” ও “পলাতক মিজানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করো” এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন নারীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা।” দ্রুত মিজানসহ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। তাদের হুঁশিয়ারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।


এলাকাবাসীর দাবি, রিতু খাতুন রিয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গৃহবধূ রিতু হত্যায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

রাজশাহীতে গৃহবধূ রিতু খাতুন রিয়াকে শারীরিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে স্বামী মিজানসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই রিতু খাতুন রিয়ার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী মিজান। পারিবারিক কলহের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী মিজান পলাতক রয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

মানববন্ধন শেষে স্থানীয়রা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা এ সময় “খুনির ফাঁসি চাই”, “রিতু হত্যার বিচার চাই” ও “পলাতক মিজানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করো” এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন নারীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা।” দ্রুত মিজানসহ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। তাদের হুঁশিয়ারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।


এলাকাবাসীর দাবি, রিতু খাতুন রিয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।