যশোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
সিজার বন্ধ থাকায় রোগীরা অন্য হাসপাতালে ছুটছেন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
যশোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র-এ দীর্ঘদিন ধরে অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে অস্ত্রোপচার ও সিজারিয়ান সেবা বন্ধ থাকায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে একসময় রোগীতে ভরপুর থাকা হাসপাতালটিতে এখন রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এই সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় অনেক রোগী ভর্তি না হয়ে অন্য হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন।

রোগীরা বলছেন, হাসপাতালের সেবার মান ভালো হলেও জরুরি সময়ে সিজারের ব্যবস্থা না থাকায় আতঙ্কে থাকতে হয়। নাজমা বেগম নামে এক রোগী জানান, তিনি স্বাভাবিক প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলেও মনে ভয় ছিল—জটিলতা দেখা দিলে সিজারের সুযোগ নেই।
আরেক রোগীর স্বজন জাহানারা বেগম বলেন, আগে এখানে নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশনও হতো। এখন সেই সুবিধা না থাকায় রোগীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
হাসপাতালের সেবিকারা জানান, সিজারিয়ান সেবা চালু থাকাকালে রোগীর চাপ অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে রোগীরা ভর্তি হওয়ার আগে সবার প্রথমে জানতে চান, এখানে অপারেশনের ব্যবস্থা আছে কি না। সিজারের সুযোগ না থাকায় অনেকে শেষ পর্যন্ত ভর্তি হন না।
সেবিকা রিতা হালদার বলেন, রোগীরা সবসময় আশঙ্কায় থাকেন—স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব না হলে কোথায় যাবেন। তাই অনেকেই মাঝপথে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।
অন্যদিকে সেবিকা শিরিনা খাতুন বলেন, শুধু অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের অভাবেই হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর মতে, এই একটি পদ পূরণ হলেই আবারও রোগীর সংখ্যা বাড়বে এবং হাসপাতাল আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিয়া রহমান জানান, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক থাকাকালে বছরে সহস্রাধিক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।




















