পদ্মায় ‘পদ্মা ব্যারাজ’, খরচ ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর আবারও পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রস্তাব তোলা হতে পারে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
সরকারের দাবি, পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ কৃষিজমির পানির সংকট মোকাবিলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করতেই এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং কৃষি ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাঁধটিতে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস ও দুটি ফিশ পাস থাকবে। এছাড়া ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে এবং ধান ও মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির সংকট, নদী শুকিয়ে যাওয়া ও লবণাক্ততার সমস্যা বেড়েছে। তাই বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, এটি নতুন কোনো প্রকল্প নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অর্থায়ন ও রাজনৈতিক কারণে বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন আটকে ছিল।
বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন মনে করেন, ভবিষ্যতে পানির সংকট ও লবণাক্ততা আরও বাড়বে। তাই স্বাদু পানির সরবরাহ বাড়াতে পদ্মা ব্যারাজের মতো প্রকল্পের বিকল্প নেই।





















