পানির নিচে পাকা ধান, হাওরপাড়ে কৃষকদের হাহাকার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ-এর জগন্নাথপুর উপজেলার একাধিক হাওর এখন পানির নিচে। নলুয়া, মই ও পিংলার হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সোমবার ও মঙ্গলবারের ভারী বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের নিম্নভূমি দ্রুত প্লাবিত হয়ে পড়ে। ফলে মাঠে থাকা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েন কৃষকেরা।
নলুয়ার হাওরের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া জানান, তিনি ১৫ কেদার জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ৫ কেদারের ফসল তুলতে পেরেছেন। বাকি সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট ও সময়ের অভাবে ফসল ঘরে তুলতে না পারায় তিনি বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
একইভাবে পিংলার হাওরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, ১০ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ২ কেদারের ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় বাকি ধান রক্ষা করা যায়নি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, নলুয়া হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল এখনো মাঠেই রয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মই হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক আছাদ মিয়া বলেন, “সব শেষ হয়ে গেল। ধারদেনা করে চাষ করেছিলাম, এখন কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।”
অন্য কৃষকেরাও অভিযোগ করেছেন, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এবং সময়মতো ফসল রক্ষা বাঁধের সঠিক ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এবার ফসল রক্ষা বাঁধই উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কাওসার আহমেদ জানান, নলুয়ার হাওরে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক এখনও ধান তুলতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, নৌকার মাধ্যমে ধান উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসলাম উদ্দিন জানান, তিনি হাওর এলাকায় অবস্থান করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাওরপাড়ে এখন একটাই চিত্র—পানির নিচে সোনালী ধান, আর কৃষকদের চোখে হতাশার অশ্রু।






















