কুমিল্লায় চরম দুর্ভোগ
পরীক্ষাকক্ষে পানি, বেঞ্চে উঠে পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা শহর। হাঁটুসমান পানি জমে প্রধান সড়ক, গলি ও আবাসিক এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমিয়ে দেয়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কান্দিরপাড়, চকবাজার, রানীরবাজার, শাসনগাছা ও ধর্মপুর এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি ও চার্জলাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। কোথাও আবার কেন্দ্রের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে উঠে বা দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়।
পরীক্ষা শেষে অনেক শিক্ষার্থীকে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ভেঙে কেন্দ্র ছাড়তে হয়, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এক অভিভাবক জানান, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় এবং পরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পুরোনো ভবনের কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন করা হলেও বাস্তবে পানি নিষ্কাশনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। অনেক এলাকায় বক্স ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তা কার্যকর নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানান, অতীতের অনিয়ম ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে জলাবদ্ধতা সমস্যা রয়ে গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু খাল পুনঃখনন করা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।




















