ইরান নিয়ে কী পরিকল্পনা আমেরিকার? মুখ খুললো ওয়াশিংটন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
আমেরিকা–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তেহরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বাড়লেও, অভিযানের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি চায় না। তাঁর ভাষায়, “ওয়াশিংটন ইরাকের কায়দায় অভিযানে আগ্রহী নয়। বরং তেহরানের সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চূর্ণ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। অন্তহীনকাল ধরে এই যুদ্ধ চলবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন হামলা সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়।”
চার সপ্তাহের লক্ষ্য?
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Daily Mail-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চার সপ্তাহের মধ্যে সামরিক অভিযান শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর দাবি, “হিসেব কষে দেখেছি, এই অভিযান শেষ হতে মোট চার সপ্তাহই লাগবে।”
ইরানের আয়তন ও সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, দেশটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত হলেও পুরো প্রক্রিয়া চার সপ্তাহ বা তার কম সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব।
আলোচনার পথ খোলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে আগ্রহ দেখালেও “ওদের গত সপ্তাহে কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।”
নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি-র নাম সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে রাখতে চাইছে। তবে বাস্তবে চার সপ্তাহে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে মাঠের সামরিক অগ্রগতি ও তেহরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
লেবাননে হেজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ইসরায়েলের
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহ’র বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এসব হামলায় আরো ১৪৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানান লেবাননের কর্মকর্তারা।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈরুতে তাদের চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার বলেছেন, হেজবু্ল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাশেম এখন স্পষ্টভাবে তাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
এমন অবস্থায় সোমবার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। তবে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়ের হামলার জবাবে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশ থেকে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে।
মূলত ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে ইরান।
এর মধ্যে সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকালে সেদেশে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
বিমানের ক্রুরা “অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন” এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।





















