ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অগ্নিঝরা মার্চ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্নিঝরা অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এটি ছিল বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বের সূচনা। মার্চের প্রথম দিনেই বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন নতুন দ্যুতিতে আলোড়িত হয়।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান একটি গুরুত্বপূর্ণ বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণা বাঙালি জাতির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং সারা দেশে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। তখন ঢাকায় পাকিস্তান বনাম বিশ্ব একাদশের ক্রিকেট খেলা চলছিল, কিন্তু ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পর দর্শকরা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে এসে পল্টন ও গুলিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে।

এই বিক্ষোভগুলো ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রকাশ নয়, বরং স্বাধীনতার জন্য বাঙালির এক অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষার এক ঝলক। মার্চ মাসের শেষ দিন, ২৫ মার্চ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় কালরাত্রির নৃশংস আক্রমণ চালায়, যেটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ছিল। বাঙালি জাতি তখন মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, এবং এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এক স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পায়।

এভাবেই ১৯৭১ সালের মার্চ মাস বাঙালির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মোড় বদলের সাক্ষী হয়ে থাকে। মার্চের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামের, প্রতিরোধের এবং এক নতুন দেশের জন্মের প্রেরণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অগ্নিঝরা মার্চ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্নিঝরা অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এটি ছিল বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বের সূচনা। মার্চের প্রথম দিনেই বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন নতুন দ্যুতিতে আলোড়িত হয়।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান একটি গুরুত্বপূর্ণ বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণা বাঙালি জাতির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং সারা দেশে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। তখন ঢাকায় পাকিস্তান বনাম বিশ্ব একাদশের ক্রিকেট খেলা চলছিল, কিন্তু ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পর দর্শকরা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে এসে পল্টন ও গুলিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে।

এই বিক্ষোভগুলো ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রকাশ নয়, বরং স্বাধীনতার জন্য বাঙালির এক অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষার এক ঝলক। মার্চ মাসের শেষ দিন, ২৫ মার্চ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় কালরাত্রির নৃশংস আক্রমণ চালায়, যেটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ছিল। বাঙালি জাতি তখন মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, এবং এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এক স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পায়।

এভাবেই ১৯৭১ সালের মার্চ মাস বাঙালির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মোড় বদলের সাক্ষী হয়ে থাকে। মার্চের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামের, প্রতিরোধের এবং এক নতুন দেশের জন্মের প্রেরণা।