ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নভেম্বরে আইসিসিবিতে বসছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা’ বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান তারেক রহমানের অটিজমে অসামান্য অবদান, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি পেলেন ইয়াশা সোবহান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠে গড়াল এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবল মেঘ কাটতেই কাঞ্চনজঙ্ঘা; পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে শুভ সূচনা করলো সোনারগাঁ পূজার ছুটির পর সচল বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ফ্রান্সের সংকটে নতুন শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ

বাসস
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাস্তবে অর্থছাড় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও অর্থছাড় ও বিদেশি ঋণ পরিশোধের চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন প্রবণতা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে প্রতিশ্রুতি বাড়লেও এসব অর্থের বাস্তব প্রাপ্তি নির্ভর করবে প্রকল্পের প্রস্তুতি, অর্থছাড়ের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর।

নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ইআরডির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ছাড় হওয়া সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।

অর্থনীতির জন্য এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে অর্থায়নের অঙ্গীকার নির্দেশ করে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি কাজে লাগে অর্থছাড়ের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ।

একদিকে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

ইআরডির হিসাবে, এক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

একই সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সুদ বাবদ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থছাড়ের সময়সূচিই নির্ধারণ করবে, প্রতিশ্রুত অর্থ কতটা দ্রুত বাস্তব উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় না হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়তে থাকলে বৈদেশিক অর্থায়নের নিট সুফল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তাই শুধু নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়ানো নয়, বরং প্রকল্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থছাড়ের বাধা দূর করা এবং পাওয়া অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি সহায়তা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে প্রতিশ্রুতি, অর্থছাড় ও ঋণ পরিশোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাস্তবে অর্থছাড় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও অর্থছাড় ও বিদেশি ঋণ পরিশোধের চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন প্রবণতা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে প্রতিশ্রুতি বাড়লেও এসব অর্থের বাস্তব প্রাপ্তি নির্ভর করবে প্রকল্পের প্রস্তুতি, অর্থছাড়ের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর।

নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ইআরডির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ছাড় হওয়া সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।

অর্থনীতির জন্য এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে অর্থায়নের অঙ্গীকার নির্দেশ করে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি কাজে লাগে অর্থছাড়ের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ।

একদিকে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

ইআরডির হিসাবে, এক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

একই সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সুদ বাবদ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থছাড়ের সময়সূচিই নির্ধারণ করবে, প্রতিশ্রুত অর্থ কতটা দ্রুত বাস্তব উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় না হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়তে থাকলে বৈদেশিক অর্থায়নের নিট সুফল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তাই শুধু নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়ানো নয়, বরং প্রকল্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থছাড়ের বাধা দূর করা এবং পাওয়া অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি সহায়তা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে প্রতিশ্রুতি, অর্থছাড় ও ঋণ পরিশোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।