ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চা উৎপাদনে উত্তরের প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ, মান রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কবার্তা

পঞ্চগড় পঞ্চগড়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে চা উৎপাদনে গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও উত্তরাঞ্চলে এই হার ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদনের এই অগ্রগতির পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং চাষিদের সারসংকট নিরসনে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এসব বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তিনটি চা কারখানা পরিদর্শন করেছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তিনি উপজেলার বাংলা টি, বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি ও পঞ্চবর্ণ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন। এ সময় কারখানার মালিক, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন এবং মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সফরের শুরুতে বাংলা টি কারখানায় পৌঁছালে মালিকপক্ষ চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। পরে তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ঘুরে দেখেন। এ সময় কারখানার মালিক শাহ আলমসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন ও শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে আজিজনগরে অবস্থিত বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে কারখানার মালিক কাজী আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়াসহ পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া পঞ্চবর্ণ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান, পরিচালক আশরাফুল ইসলাম লাবু ও ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান।

পরিদর্শনকালে মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চা উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত বছরের তুলনায় দেশে সামগ্রিক উৎপাদন ১৭ শতাংশ বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। ১৯৪৭ সালে দেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৮ মিলিয়ন কেজি। বর্তমানে শুধু পঞ্চগড় জেলাতেই উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৫ মিলিয়ন কেজিতে।

তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান ধরে রাখার ওপর জোর দেন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানসম্মত চায়ের বিকল্প নেই। কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার চায়ের গুণগত মান নষ্ট করে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনের গবেষণা জোরদার করতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিটিআরআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমতলের চা চাষিদের সারসংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁদের জন্য সারের বিশেষ বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে। শিগগিরই চাষিরা এই বরাদ্দের সার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চা শিল্পের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতে চা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক, পরিচালক ইসমাইল হোসেনসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত উৎপাদন পদ্ধতির মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চায়ের গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চা উৎপাদনে উত্তরের প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ, মান রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কবার্তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দেশে চা উৎপাদনে গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও উত্তরাঞ্চলে এই হার ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদনের এই অগ্রগতির পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং চাষিদের সারসংকট নিরসনে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এসব বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তিনটি চা কারখানা পরিদর্শন করেছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তিনি উপজেলার বাংলা টি, বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি ও পঞ্চবর্ণ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন। এ সময় কারখানার মালিক, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন এবং মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সফরের শুরুতে বাংলা টি কারখানায় পৌঁছালে মালিকপক্ষ চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। পরে তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ঘুরে দেখেন। এ সময় কারখানার মালিক শাহ আলমসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন ও শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে আজিজনগরে অবস্থিত বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে কারখানার মালিক কাজী আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়াসহ পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া পঞ্চবর্ণ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান, পরিচালক আশরাফুল ইসলাম লাবু ও ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান।

পরিদর্শনকালে মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চা উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত বছরের তুলনায় দেশে সামগ্রিক উৎপাদন ১৭ শতাংশ বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। ১৯৪৭ সালে দেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৮ মিলিয়ন কেজি। বর্তমানে শুধু পঞ্চগড় জেলাতেই উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৫ মিলিয়ন কেজিতে।

তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান ধরে রাখার ওপর জোর দেন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানসম্মত চায়ের বিকল্প নেই। কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার চায়ের গুণগত মান নষ্ট করে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনের গবেষণা জোরদার করতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিটিআরআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমতলের চা চাষিদের সারসংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁদের জন্য সারের বিশেষ বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে। শিগগিরই চাষিরা এই বরাদ্দের সার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চা শিল্পের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতে চা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক, পরিচালক ইসমাইল হোসেনসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত উৎপাদন পদ্ধতির মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চায়ের গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।