ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়োগপত্রের দাবিতে জামালপুরে ৫১ শিক্ষকের আমরণ অনশন

জামালপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র হাতে পাননি জামালপুরের ৫১ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদপ্রার্থী। নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা।

অনশনকারীদের দাবি, জামালপুর জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৮ সেপ্টেম্বর আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি ৫১ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কারণও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে দাবি করে নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

‘নিয়োগপত্র না দিলে কোথায় যাব?’

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের নিয়োগপ্রত্যাশী শামীম ইয়াসমীন সুমি বলেন, তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, ‘আমার বাসায় কোনো কর্মক্ষম কেউ নেই। বাবা বয়স্ক, তাঁর কোনো আয় নেই। ছোট ভাই বেকার। ছোট বোন মেডিকেলে পড়ে। আমার ছোট একটি বাচ্চা আছে। সংসারের দায়িত্ব নিতে আমার চাকরিটা খুব প্রয়োজন।’

কেন তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেটিও জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমি বলেন, ‘আমার বয়স শেষ। ছোট বাচ্চাকে রেখে চার-পাঁচ দিন ধরে দৌড়াদৌড়ি করছি। নিয়োগপত্র না পেলে আমি কোথায় যাব?’

‘১৩৬ জনের মধ্যে ৫১ জনের সমস্যা কোথায়?’

মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের মুনতাজিল বিল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আট মাস ধরে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। জামালপুরে ১৩৬ জনের মধ্যে ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাইনি। কেন পাইনি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারিনি।’

নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।

জামালপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সোহেল আলম বলেন, প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়ার পর তাদের বলা হয়েছিল দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে গতকাল একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও বাকি ৫১ জনকে বাদ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, আইনগত জটিলতা নেই, কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। তারপরও কেন আমাদের বাদ রাখা হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।’

তার দাবি, সুনির্দিষ্ট কারণ ও নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কেউ অনশনস্থল ছাড়বেন না।

স্থবির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম

নিয়োগবঞ্চিতরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেওয়ায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও অনেকটা ব্যাহত হয়। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা অফিসে ছিলেন না।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। তাদের জন্যই কাজ করছি। তবে কার কোন ধারায় কী সমস্যা হয়েছে, তা আমি এখনো জানি না। আমি এখন বিমান মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আশা করি ভালো কিছু হবে।’

নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, তারা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন ৫১ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেটি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক জটিলতা না থাকলে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিয়োগপত্রের দাবিতে জামালপুরে ৫১ শিক্ষকের আমরণ অনশন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র হাতে পাননি জামালপুরের ৫১ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদপ্রার্থী। নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা।

অনশনকারীদের দাবি, জামালপুর জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৮ সেপ্টেম্বর আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি ৫১ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কারণও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে দাবি করে নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

‘নিয়োগপত্র না দিলে কোথায় যাব?’

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের নিয়োগপ্রত্যাশী শামীম ইয়াসমীন সুমি বলেন, তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, ‘আমার বাসায় কোনো কর্মক্ষম কেউ নেই। বাবা বয়স্ক, তাঁর কোনো আয় নেই। ছোট ভাই বেকার। ছোট বোন মেডিকেলে পড়ে। আমার ছোট একটি বাচ্চা আছে। সংসারের দায়িত্ব নিতে আমার চাকরিটা খুব প্রয়োজন।’

কেন তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেটিও জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমি বলেন, ‘আমার বয়স শেষ। ছোট বাচ্চাকে রেখে চার-পাঁচ দিন ধরে দৌড়াদৌড়ি করছি। নিয়োগপত্র না পেলে আমি কোথায় যাব?’

‘১৩৬ জনের মধ্যে ৫১ জনের সমস্যা কোথায়?’

মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের মুনতাজিল বিল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আট মাস ধরে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। জামালপুরে ১৩৬ জনের মধ্যে ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাইনি। কেন পাইনি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারিনি।’

নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।

জামালপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সোহেল আলম বলেন, প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়ার পর তাদের বলা হয়েছিল দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে গতকাল একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও বাকি ৫১ জনকে বাদ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, আইনগত জটিলতা নেই, কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। তারপরও কেন আমাদের বাদ রাখা হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।’

তার দাবি, সুনির্দিষ্ট কারণ ও নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কেউ অনশনস্থল ছাড়বেন না।

স্থবির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম

নিয়োগবঞ্চিতরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেওয়ায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও অনেকটা ব্যাহত হয়। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা অফিসে ছিলেন না।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। তাদের জন্যই কাজ করছি। তবে কার কোন ধারায় কী সমস্যা হয়েছে, তা আমি এখনো জানি না। আমি এখন বিমান মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আশা করি ভালো কিছু হবে।’

নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, তারা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন ৫১ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেটি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক জটিলতা না থাকলে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।