নতুন তারিখ ৫ নভেম্বর
সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
প্রায় তিন দশক ধরে আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু—আত্মহত্যা, নাকি হত্যা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফলে আবারও পিছিয়েছে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমান শাহর পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান।
সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে করা মামলায় তার স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কবর থেকে দেহাবশেষ
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সম্প্রতি তার কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয় তদন্ত সংস্থা। গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এরপর ২৪ মে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের আবেদন করলে সেটি নথিভুক্ত করেন আদালত।
পরে ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা অফিস আদেশ জারি করেন।
১৯৯৬ সালে মৃত্যু, শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
তবে এক বছর পর, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ওই মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ—দুই বিষয় একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি সালমান শাহর বাবা। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনি রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা মামলায় সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। এরপর স্বজনেরা বাসায় ফিরে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তখন কয়েকজন নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে ছিলেন সামিরার আত্মীয় রুবি। সালমানের মা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্বজনেরা তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার বোন নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর।
এখন দীর্ঘদিনের আলোচিত এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন কী আসে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। আগামী ৫ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন নির্ধারিত হয়েছে। মামলার কোনো আসামি মারা গিয়ে থাকলে তা প্রমাণিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।






















