ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, সবার অধিকার সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডের আগে ঢাকাকে জানায়নি সৌদি আরব, জবাব চেয়ে চিঠি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তের ১৩ পূজামণ্ডপে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা, প্রস্তুত আরও দুই প্লাটুন রাস্তায় মাদকাসক্ত অবস্থায় ‘রাজকুমারী’, ৩ মাসের রিহ্যাব ও জরিমানা শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার’: প্রতিমন্ত্রী টুকু টাঙ্গাইলে ২ হাজার ৮০০ হিন্দুধর্মাবলম্বীকে প্রতিমন্ত্রীর উপহার ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১ যুব উন্নয়নে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭ হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার

চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনা

বাবা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাণ গেল সৈনিক পিয়াসের

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়েকদিন আগেই ঘর আলো করে এসেছিল সন্তান। নতুন বাবা হওয়ার আনন্দে যখন পরিবারে উৎসবের আবহ, ঠিক তখনই নেমে এলো শোকের ছায়া। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে পিয়াসের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে পরিবার, স্বজন ও নিজ এলাকার মানুষকে। যে সন্তান বাবার স্নেহ বোঝার আগেই পৃথিবীতে এলো, সেই সন্তানই এখন বাবাহারা।

নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন পিয়াস

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের কারণে এলাকায় তার আলাদা পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা ও সহজ-সরল ব্যবহারের জন্য স্বজন-প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণের জীবন থেমে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

সন্তানের মুখ দেখার আনন্দের পরই শোক

পিয়াসের মৃত্যুর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক—কয়েকদিন আগেই তিনি বাবা হয়েছিলেন। নবজাতককে ঘিরে পরিবারে যখন আনন্দ আর নতুন স্বপ্নের শুরু, তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর।

বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল পৃথিবীর আলো দেখা সেই ছোট্ট সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই, স্বজনদের আদরের মানুষ এবং সদ্য বাবা হওয়া পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন কাটছে স্বজনদের শোকের প্রহর।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পিয়াসের নিজ এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোক। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে আসেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাকে আরও বেদনাবিধুর করে তুলেছে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনা

বাবা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাণ গেল সৈনিক পিয়াসের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়েকদিন আগেই ঘর আলো করে এসেছিল সন্তান। নতুন বাবা হওয়ার আনন্দে যখন পরিবারে উৎসবের আবহ, ঠিক তখনই নেমে এলো শোকের ছায়া। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে পিয়াসের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে পরিবার, স্বজন ও নিজ এলাকার মানুষকে। যে সন্তান বাবার স্নেহ বোঝার আগেই পৃথিবীতে এলো, সেই সন্তানই এখন বাবাহারা।

নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন পিয়াস

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের কারণে এলাকায় তার আলাদা পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা ও সহজ-সরল ব্যবহারের জন্য স্বজন-প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণের জীবন থেমে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

সন্তানের মুখ দেখার আনন্দের পরই শোক

পিয়াসের মৃত্যুর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক—কয়েকদিন আগেই তিনি বাবা হয়েছিলেন। নবজাতককে ঘিরে পরিবারে যখন আনন্দ আর নতুন স্বপ্নের শুরু, তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর।

বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল পৃথিবীর আলো দেখা সেই ছোট্ট সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই, স্বজনদের আদরের মানুষ এবং সদ্য বাবা হওয়া পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন কাটছে স্বজনদের শোকের প্রহর।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পিয়াসের নিজ এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোক। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে আসেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাকে আরও বেদনাবিধুর করে তুলেছে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।