শেখ হাসিনাকে ‘ধরে’ দেশে ফেরাতে চায় সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরবেন—এমন অপেক্ষায় নেই সরকার; বরং তাকে ‘ধরে’ দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি কেবল ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল—এমন আলোচনা নাকচ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরসংক্রান্ত আলোচনায় বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনা একজন পলাতক আসামি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার পর তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। তাই সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজে দেশে ফিরুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—প্রত্যর্পণের দাবিতে কোনো কৌশল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ
সম্প্রতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনা এসব কার্যক্রম চালাতে পারবেন না—এমন প্রত্যাশা ছিল সরকারের। এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকেও একটি অবস্থান আশা করেছিল বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের অধিকার ভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জন্য ‘ইরিটেটিং’ এবং বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক নয়।
‘তার মুখ বন্ধ রাখা’কে ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেন উপদেষ্টা
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারত সরকার চাইলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, সেটি হলো শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধ রাখা।
তিনি সাংবাদিকদের বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়ার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য কতটা সংবেদনশীল ও বিরক্তিকর হয়ে উঠছে, ভারতীয় পক্ষের তা বোঝা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে এমন কিছু ঘটছে যা সেই ইতিবাচক পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
প্রত্যর্পণের জন্য ‘আস্থার পরিবেশ’ চায় সরকার
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপিতেও ‘আস্থার পরিবেশ’ তৈরির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও কার্যকর যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবিক অর্থে কতটা সম্পৃক্ত হতে চায়, সে বিষয়ে আস্থা তৈরির মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।






















