ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ বিশেষ অভিযান শুরু হবে।

আগামী তিন মাসকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনা করে কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।

মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা এ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

মাঠে নামবেন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা

উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে।

বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করার পাশাপাশি সেগুলো ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার

মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ বিশেষ অভিযান শুরু হবে।

আগামী তিন মাসকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনা করে কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।

মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা এ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

মাঠে নামবেন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা

উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে।

বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করার পাশাপাশি সেগুলো ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার

মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।