এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) আরও বিস্তৃত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিচারকের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ কারণে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এ সময়ে পারিবারিক আদালতের মামলা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ শতাংশ, বণ্টনসংক্রান্ত মামলা ৬৭ শতাংশ, প্রি-এম্পশন মামলা ৮৮ শতাংশ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন নতুন করে আদালতে জমা হওয়া বিপুলসংখ্যক মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো শুরুতেই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পরও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। তাঁর ভাষায়, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিচারাধীন মামলাগুলোতেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সাড়ে ৪৫ লাখ থেকে ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব।
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে, যাতে আদালতের বাইরে আইনসম্মত উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মানুষ আগ্রহী হয়।
তিনি কক্সবাজার জেলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, যা উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কম খরচে ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কার্যকর মাধ্যম। তিনি জানান, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।




















